মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

শুভ হোক জন্মদিন


জানি চাইবে না,
উষ্ণ চুম্বনে অমিয় নিস্তব্ধতায়
ডুবে যাক শরতের পুরোটা বেলা, ভারসাম্যহীন কম্পন ঘোরে
ছুয়ে দেক বিচলিত আঙ্গুলেরা, বর্ধিত হোক শ্বাসের ধ্বনি।
আকাশের সমস্ত নীল বাঁধা আঁচলে
দুদোল হাতে শিহরিত স্বেদকণা মুছে,
বলবে না চল যাই; নৈসর্গিক এক সন্ধ্যা নামাই
প্রেমকে বেঁধে দেই একই কামনার সুঁতোয়।

জানি থাকবে না,
চাতক চোখে তাকিয়ে কোন শুভেচ্ছা বার্তার,
উস্কে দিয়ে অপেক্ষাকে কাটাবে না আজ ধীর বিকেল,
ভেজাবে না চোখের কাজল একটু দেরী হলে।
তবুও জ্বালাবো আজ আঁধার পোহানো সন্ধ্যা প্রদীপ,
থাকুক যত বন্ধকী ঋণ সাজাবো আজ অবিন্যস্ত দিন,
জানাতে তোমায় মৃদু স্বরে শুভ হোক জন্মদিন।

বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

প্রবীণ

জাগতিক সিলেবাসের বাইরে দাঁড়ানো কানাগলির হাতছানিতে
হঠাৎ তার কটকিনাগুলো অসভ্য হয়ে উঠে,

নাবালক চোখে টোকা দেয় খামখেয়ালী সূর্যাস্ত সজোরে,
গয়নার নৌকা পৌঁছে দিয়ে গর ঠিকানায়।

কেঁদে উঠে মন, জানে না কখন
এক, দুই করে করে আসে ষাটের ক্ষণ,
অত:পর শেষকন্না বুঝিয়ে দাও নতুবা পুরন্ত যৌবন।

রাত

সূর্যকে ঢেকে তার কালোকেশে,
জননীর নিখাদ মমতায় ঘুম জাগিয়ে পৃথিবীর চোখে,
মধুর গুঞ্জনে আঁচলে বেঁধে নক্ষত্র রাত নেমে আসতো সুচতুর-
ক্রমশ উচু হওয়া বিনাশী দেয়াল ডিঙ্গিয়ে,
মখমলের শয্যায় ছলকে দিতে কামনার জল
নামাতো বৃষ্টি অঢেল।
মিটমিট করে তাকিয়ে থাকা একচোখা তারাগুলো ছাড়া
আর কেউ জানতো না তার কথা,
না তির্যক বাতাস না হিংসুটে জ্যোৎস্নার দল।

আজ আর সেই রাত দেখি না, যা দেখি তার সবটুকুই আঁধার,
জানি না কোথায় লুকিয়েছে সে, ভাসিয়েছে তার কোমল দেহ কার দ্যোতনায়,
নাকি সেঁজেছে গ্রন্থকীট, আনকোরা উপমায় খুঁজে পেতে অমিয়তা!
রোজকার আঁধার দেবী,
এখন আর নেমে আসে না সমুদ্রকে বানিয়ে তার পা’য়ের নূপুর,
স্রোতকে বানিয়ে অতুল ঝংকার,
নেমে আসে না সেই তীর্থের রাত চোখটিপে ধুসর গোধূলিকে।

মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০১৪

শেষ চরণ

বাকহীন বৃক্ষের তৃষ্ণার্ত ছাঁয়া জানে
জানে বুকে শয্যা পাতা নিখাদ ধুলো,
কতবার গিয়েছি ছুটে প্রাচীন পথে
বেলা অবেলায় বিদ্রুপের ধুম্রজালে।
যে পথের আঁচলে বেঁধে আধখানা চাঁদ
হিরন্ময় উদাসে নামায় শামুক রাত,
সন্ধ্যালোকে তার শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে
আহত জোনাকিরা করে প্রেম অনুবাদ।

দাঁড়ায়নি কখনো ক্লান্ত দু’পা সমান্তরাল,
থামেনি জুয়াড়ি বেসাতি আবেগের প্রস্থ মাপে।
তবুও সে পথ গড়িয়ে গড়িয়ে মিশে যায়
কোন এক অচেনা বিন্দুতে, মায়াময় প্রভাতে
ছোঁয়া হয় না পথ কবিতার শেষ চরণ।

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

সংজ্ঞাহীন এক প্রেম

অলিখিত প্রত্যশায় বেনামী স্বপ্নের যে বাগান গড়েছি,
তার নিঃসঙ্গ দেয়াল পেড়িয়ে
বেখেয়ালে মাড়িয়ে ঘাসের শিশির চলে এসো,
মৃত্যু ফুটিয়ে অপেক্ষার; কোন এক পোয়াতি আঁধারে-
নিঃসংকোচে গ্রহন করো
নিবিড় পরিচর্যায় লালিত অনুক্ত শব্দের মালিকানা।

চলে এসো হে মোহমায়া দিকভ্রান্ত বাতাসে
কোমর ছোঁয়া চুল সুবাসে ঘুম এঁকে দিও রাত জানালায়,
অবিন্যস্ত খোপাঁয় গুঁজে এক কবির সব উপমা
মৃদু টোকায় ভাসিয়ে দিও ঘরের শূণ্য কলস।
নির্ভয়েই এসো এক বিকালের প্রাণ হয়ে
রাতবর্ষার তান হয়ে,
হঠাৎ একদিন অবাক করা সংজ্ঞাহীন এক প্রেম হয়ে।

বিশ্বাসী হাত ধরে
পাঁজরের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে এসো
শুষ্ক ঠোঁট পাবে অনায়াসে দখল করে নিও,
এক সমুদ্রের গর্জন তুলে

নীরবতায় জাগিয়ে দিও লবন চর প্রহরে প্রহরে।
উষ্ণ চুম্বনে সেঁকে নিও একাকিত্বের কষ্টে পোড়া শীতল রাত।
কাঁধবালিশে মাথা রেখে বুনে দিয়ে গাঢ় শ্বাস
ফলিয়ে নিও এক মৌসুমের শস্যদানা।

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

রাত্রি বিলাস

নিঃসীম অন্ধকার চোখে
কেটে যায় সারারাত বাতাসের সুড়সুড়িতে,
অচল বোধের শায়রে বসে
প্রশ্নহীন হাত কুড়িয়ে নেই
আস্থার রসদ চুয়ে পরা আঙ্গুলের ভাঁজ।

স্পন্দনহীন পরশে স্বর্গ নেমে  আসে
এলোচুলে জন্মে বাহারি দীর্ঘশ্বাস সন্তর্পণে।
সুরেলা কন্ঠে শুনে আঁতেল উক্তি
সৃষ্টি হয় বিশ্বাসী নহর
অদৃশ্য হাতছানিতে কাটে মৌন সাঁতার।

কাদাজলে প্রলম্বিত ফেরার পথ,
পেছনে ভোরের কুয়াশায় গা ঢাকে বাড়ি,
যে বাড়ির ছাদে ঝুলন্ত স্বাধীনতা, নিরন্ধ্র দেয়াল টপকে
আকাশ হয়না কোন সময়ের সাক্ষী।

মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০১৪

অবিনশ্বর মুখ

নিবিড় বিকালে, বন্দী করতে শুন্য ক্যানভাসে;
অপলক তাকিয়ে ছিলাম যে গোমরা মেঘগুলোর দিকে।
খানিক পূর্বে, হঠাৎ নেমে আসে তারা বৃষ্টি হয়ে,
জলমানবের অপেক্ষার স্লোগানে;
ভেজাতে তার শুষ্ক ঠোট,
চিবুক ছুঁয়ে হিম পরশে জাগাতে তার কাব্য বিলাস।
এদিকে বেখেয়ালী ঘোরে অসম্পন্ন থাকে অন্তিম ছবি,
ভুলে যাই সেই চিরচেনা মেঘের রঙ।

পাথরের আড়ালে অসীম নিঃশব্দে লুকিয়ে থাকা
অভিমানী ক্যাকটাস; শেষ কবে কোন প্রহরে,
মুখ তুলে তাকিয়েছিল, কোন বিহ্বল দুপুরে,
অলিখিত দিব্যি তুলে খুলেছে তার চটুল খোঁপা,
শর্তবিহীন দৃষ্টিতে শেষ কবে, কোন আঁধারে-
শয্যা পেতেছিল ঈশ্বরহীন বিন্দুতে!
সব কিছুই ভুলে গেছি।

তবে আজও ভুলতে পারিনি,
রাতের শেষে জেগে থাকা অন্ধকারে,
আধুলির নির্বাক আঁচলে আশ্রিত মুখখানি।

বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০১৪

নির্লিপ্ত সংহার

আজও আমি বেঁচে আছি পাথরের ভারে ফুলে উঠা জলের মত,
কিঞ্চিৎ হাসি জ্বালিয়ে ঠোঁটের কোণে করতালি বাজিয়ে অবিরত।
বেঁচে থাকি আলোর হাঁট ভাঙা আর্তনাদে জীবন্ত হলুদ পাতায়-
ঘর বেঁধে উজ্জ্বল দিনের হত্যাকারী সূর্যাস্তের চোখের মায়ায়।
বাতাসের ঘূর্ণিতে সৃষ্ট আধুনিক নন্দনতত্ত্বের নির্যাস পানে-
বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয়, সবুজেরাও যেখানে আঘাত হানে।

আর কত রাত জানালায়, চুমু দিব আঁধারের সুগোল খোঁপায়?
আমিতো একদিন প্রেমিক ছিলাম কোনো কুমারীর হাত রেখায়-
আমি ছিলাম একটি তরল বিন্দু বেখেয়ালে মুছে যাওয়া কালে,
যে দিয়েছিলো পথের সন্ধান স্বপ্নীল পথিকের পাতা ঝরা ডালে।
সদ্য পাওয়া দৃষ্টির পরিমিত বোধে ছুটে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়-
সরল পথের বহুমুখী জালে ক্লান্ত হয়ে আবার পথ হারায়।

আজ তবে,
মানচিত্র পেরিয়ে এসে, আদিগন্ত আলোর এই বেনামী শহরে-
অশরীরী বাতাসী বেশে ছুঁয়ে দাও আমায় এই নিঃসঙ্গ প্রহরে।
নীরব অভিযোগের নীল উপত্যকায় গুঁজে দাও বিশ্বাসী মূল,
কপালে লিখে দাও সমাপ্ত বার্তা তির্যক নিঃশ্বাসে ভেঙ্গে দিয়ে ভুল।
বুকে জড়িয়ে নাও সবার অলক্ষ্যে এসে বর্ষার বিহ্বল সন্ধ্যায়-
অমিয় স্পর্শে মুদিত করো চোখদুটো, হলে হোক স্নিগ্ধ অবেলায়।

মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০১৪

বৃষ্টিস্নাত শব্দেরা

কাল রাতের নির্জনে এক পশলা বৃষ্টি এসেছিলো,
নীল অন্ধকার ঘরে, বিনা অনুমতিতেই-
ধুয়ে দিয়ে গেছে ধুলোপড়া শব্দগুলোকে।
বৃষ্টির মৃদু গুঞ্জনে প্রতিটি শব্দ পেয়েছে স্বচ্ছতা,
এতটাই স্বচ্ছ যে, অনায়াসে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো-
পশ্চাতে দাঁড়ানো হিজল তলার ভোর,
নোনাধরা নীল পোশাকে পরাধীনতার সুর।
কত না মধুরতায় চতুর বিকালের স্রোত বয়ে যায়,
যুগলের তত্ত্ব কথায় মৃত্তিকা আবার প্রাণ ফিরে পায়।

হঠাৎ করেই শব্দগুলো নড়ে উঠে,
ঘরময় শুরু হয় তাদের ছুটোছুটি,
মুক্তির দাবিতে প্রকম্পিত করে ঘরের প্রতিটি স্তম্ভ।
আমি অনিমেষে তাকিয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ-
নির্বাক হয়ে "ভালবাসা" নামক শব্দটির দিকে।
পেলব কন্ঠে বলেছিলাম,
"আমি তো তোকে ভালবেসে তোর ধুলোমাখা শরীর নিয়ে বেঁচে ছিলাম,
আজ তুই ও কি মুক্তি চাস?"

উৎকর্ণ হয়ে শুনেছিলো আমার অস্পষ্ট ব্যাক্যগুলো,
অতঃপর চিৎকার করে বলে উঠে,
"কাপুরুষের ভালবাসা! আদৌ কি পেরেছিলে ভালবেসে-
আমাকে গুঁজে দিতে কোনো একটি কবিতার ক্ষুদ্র চরনে?"

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০১৪

তারুণ্য উত্থান

জ্বলন্ত সূর্যকে কটাক্ষ করে সশব্দে নেমে আসে,
অজস্র রাতের পুঞ্জীভূত আঁধার, পৃথিবী গুনে-
অকালে ঝরে পরে কত নব পল্লবের সংসার,
কত বাবা কাঁধে বয়ে বেড়ায় শেষ অবলম্বন।

কাঁচ টেবিলের উপর সজ্জিত শেষ মোমপুতুলটি-
প্রত্যুষ পূর্বেই আজ, নিঃশেষিত হোক সলতে দহনে।
আমি অপলক তাকিয়ে থাকব নির্ঘুম দু'চোখে,
স্বতঃপ্রবৃত্ত ক্লান্তির স্পর্শে ভূলুন্ঠিত অবয়বে।
থাকব আমি মৃত্যুবধি তারুণ্য উত্থানের অপেক্ষায়,
সফেদ হিমরেখা ছাড়িয়ে যে উত্থিত হবে সগৌরবে। 

শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

অঙ্কুরে বিনাশ

সমুদ্রে মিশে যাওয়া এক ফোঁটা শিশিরের খোঁজে-
দুলছে ক্লান্ত দেহ, সূর্যরাগে কুঁচকানো কপালে
যতি চিহ্নের শেষে দাঁড়িয়ে থাকা, অনুক্ত শব্দেরা
ঘুরছে চক্রাকারে। দ্রোহী পায়রার দল মেতেছে-
গুঞ্জনে বন্ধ্যা মেঘদের সাথে। শুন্যবাদে বিশ্বাসী
রুমালে অঙ্কিত স্থিত হাসিতে ধ্বংসের আমন্ত্রণ।

উন্মাদ বাতাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে, তুলে আনা-
তৃষ্ণার জলটুকু গড়িয়ে পরে আঙ্গুলের ফাঁকে।
প্রমূর্ত শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি, খেরোখাতার
পৃষ্ঠায় লুকায়িত দুর্নিরীক্ষ্য স্বপ্নের সানুদেশে।
কে যেন এসে স্পর্শ করে যায় নিষিদ্ধ অন্ধকারে,
বাতাসের আড়ালে ঢেকে তার নিঃশ্বাসের নিনাদ।

সন্তর্পণে গড়ে তোলা উদ্যানে মাকড়সা বুনছে
নধর জাল। অঙ্কুরে বিনাশ জুয়াড়ির স্বপন।

নিরাপত্তার খোঁজে

সভ্যতার দৈত্য দখল করেছে হোগলার বন
আধুনিক সৌখিনের ক্রুশে বিদ্ধ দক্ষ কারিগর,
এক টুকরো খড়ের খুঁজে চষে হাজারো প্রাঙ্গন,
তবুও মেলে না দেখা ক্রান্তিকালে, বিবর্ণ নগর।
বৃষ্টিতে জুবুথুবু, ছুটে আসে নিরাপত্তার খোঁজে,
অনর্থক কড়া নাড়ে বিবাদে লিপ্ত প্রাসাদ দ্বারে;
যারা কর্তন করছে পৌরাণিক বৃক্ষ চোখ বুঁজে,
যারা দলছে আপন নীড় উন্নয়নের আড়ালে।

স্বচ্ছ কাঁচ জানালায় আটকে থাকা ত্রস্ত দু’চোখ,
প্রকম্পিত ডানা ঝাপটায় আশ্রয়ের আর্তনাদে,
কোমল শয্যায় সুপ্তি মোহে প্রসারিত দৃষ্টিসুখ,
সুধীর দৃশ্যপট, অনিমেষে তাকায় নির্বিবাদে।
ক্লান্ত দুপুরে আষাঢ়ে বৃষ্টির অদ্ভুত দ্যোতনায়,
বিদ্রুপের প্রলেপে ঠাঁই পায় বিলুপ্তের পৃষ্ঠায়।

স্বর্গের মেঘ পরী

আজ খুঁজছে ধরণী স্বর্গের মেঘ পরী-
হন্য হয়ে, ফেলে যাওয়া তার চিহ্ন ধরে।
খুঁজছে স্বজনে,
অবোধ বদনে,
উৎসুক নয়নে।
খুঁজছে সবাই সেই অজ্ঞাত স্টেশনে।
খুঁজছে সূর্যাস্তের শেষ চিত্রল ট্রেনে।


সর্বত্রগামিনী মেতেছিলো সহযাত্রী হয়ে,
স্পষ্টিত আপন গন্তব্যের বৈধ উচ্ছ্বাসে।
আঁধারের গর্ভে প্রসবিত প্রফুল্ল জ্যোৎস্নায়-
যখন পরিস্ফুটিত হয়ছে তার অচিন মুখ;
নদীতে এসেছে বান,
ভুবন করেছে স্নান,
সেতার ধরেছে তান।
অনর্থক মায়াজালে বন্দী সন্ধ্যা বাতাসে-
মাতিয়েছে উল্লাসে, সৃষ্টি করে অগ্রণী বন্ধন,
হৃদয়ের অভ্যন্তর দখলে বসত গেঁড়ে চিরস্থায়ী।


অলীক সময়ের রূঢ় বিদ্রুপ নির্যাসে আজ
বিস্তৃত মায়ার শেকড় এই ধোঁয়াটে নিশিতে।

উৎসর্গ : সোনেলার ব্লগার স্বর্গের মেঘ পরীকে। আমাদের সহযোদ্ধা হিসেবে আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ।

মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০১৪

নিরাপত্তার খোঁজে

সভ্যতার দৈত্য দখল করেছে হোগলার বন
আধুনিক সৌখিনের ক্রুশে বিদ্ধ দক্ষ কারিগর,
এক টুকরো খড়ের খুঁজে চষে হাজারো প্রাঙ্গন,
তবুও মেলে না দেখা ক্রান্তিকালে, বিবর্ণ নগর। 
বৃষ্টিতে জুবুথুবু, ছুটে আসে নিরাপত্তার খোঁজে,
অনর্থক কড়া নাড়ে বিবাদে লিপ্ত প্রাসাদ দ্বারে;
যারা কর্তন করছে পৌরাণিক বৃক্ষ চোখ বুঁজে,
যারা দলছে আপন নীড় উন্নয়নের আঁধারে।

স্বচ্ছ কাঁচ জানালায় আটকে থাকা ত্রস্ত দু'চোখ,
প্রকম্পিত ডানা ঝাপটায় আশ্রয়ের আর্তনাদে,
কোমল শয্যায় সুপ্তি মোহে প্রসারিত দৃষ্টিসুখ,
সুধীর দৃশ্যপট, অনিমেষে তাকায় নির্বিবাদে।
ক্লান্ত দুপুরে আষাঢ়ে বৃষ্টির অদ্ভুত দ্যোতনায়,
বিদ্রুপের প্রলেপে ঠাঁই পায় বিলুপ্তের পৃষ্ঠায়।

শনিবার, ৭ জুন, ২০১৪

ঢিল

কখনোতো তোমার নিশানা লক্ষভ্রষ্ট হয়নি !
হারানোর শঙ্কারোধে যে বৃক্ষের বিস্তীর্ণ কোটরে
তুমি ঢিল ছুঁড়ে ছিলে তিন বার করে সহস্রবার,
সে কোটরের অনেকটা আজও শুন্যতায় ভরাট,
রয়েছে হাতের নাগালেই পাথরের সুবিশাল সমুদ্র।
তবে আজ কেন বৃষ্টির জলে স্নান করে অশ্রুমালা,
একাকীত্বের মোড়কে জনারণ্যে খুঁজে বেড়াও সহযাত্রী!

সোমবার, ২ জুন, ২০১৪

হাইকু গুচ্ছ-১

১
চৈত্র তাপর বিষ
পান করে কালো পাহাড়
জ্বলে অহর্নিশ।
 
২
অবরুদ্ধ নীল
মিশে যায় বৃষ্টির সাথে
খোলে রুদ্ধ খিল।
 
৩
নিশ্ছিদ্র দেয়াল
বিস্তৃত অলীক জোছনা
বিদীর্ণ খেয়াল।
 
৪
সচকিত নড়ে
ঝুলন্ত কিশোর পোশাক
জড়তার ভরে।
 
৫
অপেক্ষায় বয়স বাড়ে
অশুদ্ধ ভাবনায়
জীবনকে দেয় সায়।
 
৬
পথের প্রান্তে নূতন পথ,
দ্বিধা পূর্ণ মন,
জয়ী বিচক্ষণ।

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০১৪

ঋণ

ভর দুপুরে জলে ভাসে
তাজা মাথার খুলি।
সাংবাদিকের সাথে গিয়ে,
সবাই ছবি তুলি।

পরিচয় তার জানে না কেউ,
কোন গ্রামেই বা তার বাস।
আশেপাশের সবাই বলে,
ইশ একি সর্বনাশ!

হঠাৎ করে দৌড়ে এসে,
মা খুঁজে তার ছেলে।
ছেলে তার বলে না কথা,
চোখে আগুন জ্বলে।

অন্ধ মায়ের কান্না ভাসে,
সবুজ শ্যামল দেশে।
বোন কাঁদে তার ভাই-এর জন্য
বিচার পায় না শেষে।

দেশটারে কে খেলো গিলে,
আর খাবে কত দিন?
সময় বাপু আসছে তেড়ে,
শোধ করতে হবে ঋণ।

বুধবার, ২৮ মে, ২০১৪

শ্ববৃত্তি

ছুঁড়ে ফেলে অনুপ কাব্যের কুৎসিত পাণ্ডুলিপি,
উগড়ে দিয়ে সুবজ শেকড়ের নির্যাস-
অপাদমস্তকে মেখেছি আধুনিকতা।
কতই না করেছিলি উপহাস তোরা-
কাকের কা কা-এর কর্কশ সুরে-
দেখে শিশির দলিত ভোরের তেজস্বী ছটা।
আজও জানি চিপটান কাটবি-
হা হা করে, অন্তপুরের কুপিত বায়ুতে-
কপট শয্যাতেই বিছিয়ে দিবি জায়নামাজ।

আর আমি!
পৌঁছেছি অস্বাক্ষরিত সংবিধানের শেষ পৃষ্ঠায়,
অপ্রহত কাননে বিমূঢ়তার পৃষ্ঠে করতে ভ্রমর চাষ।

শুক্রবার, ২৩ মে, ২০১৪

জীবনান্বেষণ

কখনো কখনো কেউ ব্যাকুল হয়ে উঠে অনামক জীবনের খুঁজে,
অথবা নিরাকার আলিঙ্গনে নিতে স্বার্থকতার স্বাদ চোখ বুঁজে।
দেখি সুনির্দিষ্টতার শেকল পরে পঞ্চালিকার সকাতর নিস্তরঙ্গতা,
উজ্জ্বল বার্নিশে ঢেকে ব্যর্থতা, অনামুখে নিজের সাথেই শঠতা।
বর্ণচোরার রুপবাহুল্যে বিভোর হয়ে উঠে নিজেকে বিলাতে,
স্বপ্নকারের ধূর্ত নয়নে চায় যে অন্তর্বাহী সুখ চৈত্রের খরাতে।
অনুগ্রহের জলস্নানে চায় পুণ্যতার স্বীকৃতি, করে না সমর্পণ-
অপ্রতিম চাহনীতে, বইতে চায় না কোনো উপেক্ষার ভারার্পণ।
অশিথিল উৎসুক নয়নে প্রতি মুহূর্তে পারমানবিক বিস্ফোরণ,
তবুও খুঁজে জীবন, অরণ্য রোধন, অতঃপর আঁধারে আস্তরণ।

মা'য়ের শাসনবৃত্তে যখন বন্দী ছিলো কৈশোরের তুখোড়তা,
বাবার সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি যখন বয়ে এনেছিলো সাময়িক জড়তা,
মনে পরে সেদিন বলেছিলাম, জীবন তুমি কি ভবঘুরে হয়ে-
কাটানো পথিকের প্রতিবিম্ব? মলিন মুখে ঝরো উচ্ছ্বাস হয়ে?
নাকি কোনো পাঠকের শেষ অধ্যায়? অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস?
জবাব দেয়নি, তাই করিনা অধ্রুব জীবনে সংস্কারে বিশ্বাস।
নিরবতার বিদ্রুপে ঘর্মাক্ত শরীর, উর্ধ্বগতিতে সময়ের রথ,
এখন শুধুই চাই সুপর্ণ বৃক্ষের ছাঁয়ায় হেঁটে যাবো সুদীর্ঘ পথ।
যদি কখনো সম্মুখে এসে দাঁড়ায় লোভাতুর দৃষ্টিতে ছদ্মবেশে,
তখনিই অঙ্কিত করবো বিজয়ের উপসংহার শূন্য ক্যানভাসে।

বুধবার, ২১ মে, ২০১৪

সভ্য সমাজ

আচ্ছাদিত হইনি অভিপ্রায়ের চাদরে,
কখনোই ভাসিনি দিগবিজয়ের সাগরে।
চাইনি আকাশচুম্বী দালানের দাম্ভিকতা,
কোমল বিছানায় হোক দাহিত সরলতা।
অস্বচ্ছ নয়নে শুধু মেতে ছিলাম ব্রতে,
ক্ষণস্থায়ী এই সমাজের বাসিন্দা হতে।
কিন্তু দরিদ্রতার দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরে,
সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বললে "যাও দুরে সরে"।
ফিরেছি অসংগত ইচ্ছার কপাট থেকে,
তাই আক্ষেপে জ্বলিনি সভ্য সমাজ দেখে।

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by প্রহেলিকা