শুভ হোক জন্মদিন
জানি চাইবে না, উষ্ণ চুম্বনে অমিয় নিস্তব্ধতায় ডুবে যাক শরতের পুরোটা বেলা, ভারসাম্যহীন কম্পন ঘোরে ছুয়ে দেক বিচলিত আঙ্গুলেরা, বর্ধিত হোক শ্বাসের ধ্বনি।
রাত
সূর্যকে ঢেকে তার কালোকেশে, জননীর নিখাদ মমতায় ঘুম জাগিয়ে পৃথিবীর চোখে, মধুর গুঞ্জনে আঁচলে বেঁধে নক্ষত্র রাত নেমে আসতো সুচতুর- ক্রমশ উচু হওয়া বিনাশী দেয়াল ডিঙ্গিয়ে, মখমলের শয্যায় ছলকে দিতে কামনার জল নামাতো বৃষ্টি অঢেল।
জর্নাল, শ্রাবণ (কবি শামসুর রাহমান)
তুমি আসবে না নিঃশব্দে নিঃসঙ্গ এই চেনা বাগানের দরজা খুলে ফাল্গুনের বিহ্বল দুপুরে মাড়িয়ে ঘাসের পিঁপড়ে, শুকনো পাতা সিঁড়ির নির্জন বাঁক ঘুরে এসে শিশিরের মতো স্বেদকণা মুছে মিহি রুমালে, হাওয়ায় প্রীত তুমি মৃদু টোকা দেবে না দরজায়; গানের গুঞ্জনে আর উঠবে না ভরে দক্ষিণের শূন্য ঘর প্রহরে প্রহরে।
শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৪
ছোটগল্প লেখার নিয়মকানুন (সংগৃহীত)
সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ছোটগল্প। এর মাধ্যমে লেখক মানব জীবনের সেই অংশ তুলে ধরেন যা শাশ্বত জীবন আর মানবতাবোধের মূর্ত কিংবা বিমূর্ত ছবি। ছোটগল্পকে কোনো সংজ্ঞার নিয়মকানুনে বাঁধা যায় না। এর বিচরণ বহুমাত্রিক। তারপরও এর একটি রূপ তুলে ধরার জন্য আমরা প্রায়ই রবিঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘বর্ষাযাপন’ কবিতার সেই পঙ্ক্তিগুলো স্মরণ করি যেখানে বলা হয়েছে:
‘ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল-
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি,
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ-
অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।’
রবিঠাকুর এই কথাগুলো বলেছেন, ১২৯৯ বঙ্গাব্দের ১৭ই জ্যৈষ্ঠ। আজও ছোটগল্পের বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে আমাদের কবিতার এই পঙ্ক্তিগুলোর উল্লেখ করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে ছোটগল্প জীবনের একটি খণ্ডিত অংশ হতে পারে। সেই অংশ দিয়ে জীবনের বিশাল রূপ দৃশ্যমান হয়। যেন অনেকটা সেই ছোট জানালা যা দিয়ে বিশাল আকাশটা দেখা যায়।
আমাদের জীবনপ্রবাহে হাজার হাজার ঘটনার, উপলব্ধির সেই অংশটি ছোটগল্পের উপাদান যা জীবন আর মানবতাবোধের পটভূমিকায় বিশেষত্ব লাভ করেছে। এখানেই এর মহত্ব এবং তাৎপর্য। এখানে কোনো তাত্ত্বিক কথা নেই, ঘটনার অতিরঞ্জিত বর্ণনা নেই এবং কোনো উপদেশবাণীও নেই। লেখক গল্পের ঘটনা, চরিত্র আর মার্জিত বিবরণের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলেন যবনিকার শেষপ্রান্তে। তারপর যেন মনে হবে, শেষ পরিণতিটা আর একটু জানা হলে ভালো হতো। বস্তুত লেখক সেটি পাঠকের জন্য ছেড়ে দেন। পাঠক ছোটগল্প পড়তে গিয়ে নিজের মধ্যে যে ভুবন তৈরি করেন সেখানে একটি সমাপ্তি বা উপসংহার টেনে নিতে পারেন যেখানে তৃপ্তির অতৃপ্তির একটি প্রভাব থেকে যায়।
ছোটগল্পে এক বা একাধিক সুনির্দিষ্ট এ্যকশনের মাধ্যমে একটি ঘটনা বা কাহিনীর বর্ণনা হয়ে থাকে। লেখক এই কাহিনী বা গল্প সেই সুনির্দিষ্ট এ্যকশনের ধারাবাহিকতার ক্রমানুসার ধরে লেখেন। আর এটি বলতে গিয়ে এক বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ ঘটান এবং তাদের দ্বারা সেই ঘটনাক্রম ঘটে থাকে। এই ঘটনাক্রম যে এ্যকশনের মাধ্যমে ঘটে থাকে আর পরিশেষে একটি কাহিনীর সুবিন্যস্ত রূপ দেখা যায় তাকে বলা হয় ‘প্লট’। ঘটনাগুলো কিছু ব্যক্তি বা চরিত্রের দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে ঘটে থাকে। এই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের স্ব স্ব নিজস্বতা রয়েছে, যেমনভাবে রয়েছে তাদের পৃথক পৃথক ভূমিকা। তারা একেকজন একেকমতো কথা বলে। তাদের চেহারা আমাদের পরিচিত পরিবেশ থেকে তুলে নেয়া অথবা কল্পনার জগৎ থেকে। তারপরও লেখকের লেখার স্টাইলে এই ব্যক্তিগুলো আমাদের চোখে স্বতন্ত্ররূপে মূর্ত হয়ে উঠে। তাদের এক একটি চরিত্র পাঠকের চোখে পৃথকভাবে ভেসে উঠে। এই চরিত্রগুলো গল্পের প্রাণ। তারা গল্পের মাঝে যেমন নির্দিষ্ট একটি ফ্রেমে বাঁধা থাকে তেমনভাবে সুনির্দিষ্ট এক বা একাধিক স্থানের মাঝেই তাদের বিচরণ। সুতরাং সময় এবং স্থানের ভূমিকা ও গুরুত্ব গল্পের কাহিনীকে জীবন্ত করে থাকে যাকে আমরা বলতে পারি ছোটগল্পের সেটিং। পরিশেষে যে কথাটি লেখক বলতে চান অথবা যা পাঠকমনে জেগে উঠতে পারে তা গল্পের মূল বক্তব্য বা থীম। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যে বিভিন্ন রকমের, বিভিন্ন স্বাদের, বিভিন্ন গল্প রয়েছে যেখানে লেখকগণ বিভিন্ন সময়ের হাজারও স্থানের ছোটগল্প লিখেছেন এবং লিখছেন। আর এসব ছোটগল্প যে বিচারেই বিশ্লেষণ করা যাক না কেন সেটা কখন, কোথায় কিংবা স্টাইল ও পরিধি ধরে বিচার করলেও উপরোক্ত উপাদানগুলো পাওয়া যাবে। মুলত এগুলো ছোটগল্পের মৌলিক উপাদান। বিষয়টি আরও একটু পরিষ্কারের চেষ্টা করা যাক।
একটি ছোটগল্পে এমন কি বড়গল্পেও মূলত চারটি উপাদান থাকে। এগুলো হলো ১) প্লট ২) চরিত্র ৩) সেটিং ৪) থীম। এগুলো ছোটগল্পকে জীবন্ত ও সুখপাঠ্য বৈশিষ্টমণ্ডিত করে।
১) প্লট (Plot):
এটি হলো গল্পের মেরুদণ্ড। আভিধানিকভাবে প্লট বলতে বোঝায়, যে ঘটনাসমূহ ধারাবাহিকতার ক্রমানুসার ধরে গল্পের মধ্যে প্রকাশিত বা বিকশিত হয় তাই প্লট। লেখক এখানে ঘটনাক্রমগুলো অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে এক এক করে লেখেন। এটি কোনোক্রমেই এলোমেলো হয় না। এটি কাহিনীর প্রয়োজনে কোনটি আগে কোনটি পরে লেখক তা তার দক্ষতার গুনে সাজিয়ে থাকেন। এই সুবিন্যস্ত ধারাক্রম কাহিনীকে একটি পরিণতি বা সমাপ্তির দিকে নিয়ে যায়। তাই লেখককে গল্প লেখার সময় কাহিনীর একটি ধারাক্রম সাজিয়ে নিতে হয়। তিনি গল্পের মূল থীমকে লক্ষ্য করে কোথায়, কখন ও কোন্ ঘটনার বিবরণ দেবেন তা দক্ষতার সাথে নির্ধারণ করেন। লেখকগণকে বেশিরভাগ ছোটগল্পে প্লট সাজানোর জন্য পাঁচটি কাঠামো বা উপাদান অনুসরণ করতে দেখা যায়। এগুলো হলো: ক) ভূমিকা বা শুরু খ) ঘটনার আরোহণ গ) চরম পরিণতি বা ক্লাইমেক্স ঘ) ঘটনার অবরোহণ ঙ) সমাপ্তি বা পরিশেষ।
ক) ভূমিকা বা শুরু:
ছোটগল্প শুরু করতে হয় একটি আকস্মিক ঘটনা বা ঘটনার কথা দিয়ে যাতে পাঠক খুব সহজেই পরবর্তী লেখাগুলোয় আকর্ষিত হতে পারেন। এটি শুধু যে ঘটনার কথা হতে হবে এমন কথা নেই, সেটি চরিত্র বর্ণনা, কাহিনীর পরিস্থিতি, সংঘাতময় কোনো কথা, সামগ্রিক কাহিনীর সেটিং অথবা গল্পের থীমের বক্তব্য দিয়েও শুরু করা যেতে পারে যেখানে তা পাঠকের কাছে আকস্মিক বিস্ফোরণের মতো মনে হতে পারে এবং তিনি আগ্রহের সঙ্গে গল্প বা কাহিনীর পরবর্তী অংশে সহজে প্রবেশ করতে পারেন।
খ) ঘটনার আরোহণ:
গল্পে ঘটনা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ অংশে এটির সূত্রপাত ও তার এগিয়ে যাওয়া দেখতে পাওয়া যায়। পাঠক লেখকের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার মধ্যে সংশ্লিষ্ট হয়ে যান। তার চোখের সামনে ঘটতে থাকে এক একটি ঘটনা। এই ঘটনাগুলো হতে হয় আকর্ষণীয়, প্রয়োজনানুগ, বাহুল্যমুক্ত, কাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট বা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব ঘটনা ধারবাহিকভাবে ঘটতে ঘটতে একটি পরিণতির দিকে অগ্রসরমান থাকে। লেখক মূলত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এখানে সেই ঘটনাগুলোর জন্য চরিত্র নির্মাণ করেন অথবা সৃজিত সেই চরিত্রগুলো ঘটনা ঘটিয়ে চলে। এ ঘটনাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিল-অমিল ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত গল্পের কাহিনীকে একটি চূড়ান্ত পরিণতি দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। লেখক যা বলতে চেয়েছেন গল্প শেষে পাঠক তা সহজে আবিষ্কার করেন।
গ) চরম পরিণতি বা ক্লাইমেক্স:
ছোটগল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। এখানে লেখক ঘটনার যে ধারানুক্রম বর্ণনা দেন এবং যেখানে ঘটনা ও চরিত্রগুলোর মধ্যে মিল-অমিল ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত, চরিত্রগুলোর নিজ নিজ স্বকীয়তা ও তাদের স্বতন্ত্র ভূমিকা গল্প বা কহিনীকে পাঠকের মনন জগতে চাক্ষুস বা জীবন্ত করে চলে তার চূড়ান্ত ও আবেগময় এক পরিণতি আবহ তৈরি হয়। পাঠক এখানে গল্পের ও চরিত্রের মধ্যে সমস্যা বা বর্ণিত ঘটনার একটি চরম রূপ দেখতে পান। ঘটনা ও চরিত্রগুলোর মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন এ্যকশনের এই চরম রূপ পরবর্তীতে কাহিনীর পরিণতি বা শেষ নির্ধারণ করতে সহায়ক হয়।
ঘ) ঘটনার অবরোহণ:
ছোটগল্পে বর্ণিত কাহিনীর চরম পরিণতি নির্ধারণ করে দেয় যে, ঘটনাগুলোর শেষ কিভাবে হতে যাচ্ছে। এখানে বর্ণিত কাহিনী এবং তার মধ্যে ঘটনা ও চরিত্রগুলোর মিল-অমিল ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিম্নমুখি বা সমাধানমূলক হতে থাকে। পাঠককে একটি চূড়ান্ত পরিণতি তা স্বস্তিদায়ক বা আনন্দের বা বিষাদের হতে পারে সেদিকে ধাবিত করে। তিনি বুঝে নিতে পারেন যে গল্পের শেষ কোথায় ও কিভাবে হতে যাচ্ছে।
ঙ) সমাপ্তি বা পরিশেষ:
ছোটগল্প শেষ হয়েও শেষ হয় না। পাঠকের মনে একটি অশেষের জিজ্ঞাসা বা অতৃপ্তি রেখে দেয় আর প্রকৃতপক্ষে এখানেই ছোটগল্পের সার্থকতা। কাহিনীর সূত্রপাত, ঘটনা ও চরিত্রগুলোর মধ্যে বিভিন্ন এ্যকশন, সেসবের দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সামঞ্জস্য ছোটগল্পকে যে পরিণতির দিকে নিয়ে যায় মূলত এটিই সেই কাহিনীর বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত। লেখককে নির্ধারণ করতে হয় তিনি আসলে এই কাহিনীর দ্বারা কী বলতে আগ্রহী এবং তিনি কোথায় কোন্ অবস্থানে থেকে সেই সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য বলবেন। এটিকে সমগ্র কাহিনীর মূল প্রতিবাদ্য বলা যেতে পারে।
একটি ভালো প্লটের বৈশিষ্ট:
ছোটগল্পে ‘সংঘাত’ প্লটের জীবন হিসেবে অভিহীত। গল্পের কাহিনীর মধ্যে যে ঘটনা বলা হয় ও যেসব চরিত্র সৃজন করা হয় সেগুলোর মধ্যে একটির সাথে আর একটির সংঘাত গল্পের মূল পরিণতির জন্য অবশ্যম্ভাবী। এই এ্যকশনগুলো না হলে কাহিনী অগ্রসর হতে পারে না। এই সংঘাতগুলোর কী পরিণতি হচ্ছে, চরিত্রগুলো তাদের অবস্থান থেকে আর কোথায় যাচ্ছে অথবা সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছে কি না তা জানতে পাঠক আগ্রহ নিয়ে থাকেন। লেখক সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেন। গল্পের প্লট সমস্যা বা ঘটনার মধ্যে আবর্তিত হয়। ঘটনার আরোহণ সংঘাতের উপর ভিত্তি করে চলে ও কাহিনীকে গতিশীলতা এনে দেয়। এখানে চরিত্রগুলোর জীবনে নানান সংঘাত অথবা গল্পে বর্ণিত কাহিনীর সংঘাত প্রধান উপজীব্য।
একটি ভালো প্লট র্নিমাণের দক্ষতা সংঘাতগুলো সাজানোর উপর নির্ভর করে। এই সংঘাত দু’ভাবে হতে পারে: ১) কাহিনীর মূল ঘটনা বা কেন্দ্রীয় চরিত্রকে আবর্তিত করে অথবা ২) কাহিনীর মূল ঘটনা বা কেন্দ্রীয় চরিত্রকে যা বিরোধিতা করছে তাকে ঘিরে। তবে এই সংঘাতের মধ্যে কেন্দ্রীয় চরিত্র সবসময় পাঠকের সহানুভূতি পেয়ে থাকে। এটি অনেকটা গল্পে বর্ণিত নায়ক ও ভিলেনের মধ্যে সম্পর্কের মতো।
সংঘাত দু ধরনের হতে পারে: ১) বাহির হতে সংঘাত: যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র বা অন্যান্য চরিত্রগুলোর নিজেদের কোনো হাত নেই এবং তা ঘটনা বা বিপরীত চরিত্র কর্তৃক আরোপিত। এখানে এই চরিত্রগুলো বাহির হতে আরোপিত সংঘাত থেকে মুক্তির পথ খোঁজে। সেজন্য সংগ্রাম করে। ২) অভ্যন্তরীণ সংঘাত: যেখানে কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র বা চরিত্রগুলো নিজেদের মধ্যে এই সংঘাত তৈরি করে ও ঘটনাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এখানে চরিত্রগুলোর ভালোমন্দ লাগার অনুভূতি, বিশ্বাস, আশা-হতাশা, স্বপ্ন-স্বপ্নভঙ্গ ইত্যাদির বর্ণনা হতে পারে।
সফল প্লট নির্মাণের কৌশল:
একটি ভালো গল্পের মূল ভিত্তি প্লটের সফলতার উপর নির্ভর করে। বলা যায়, পাঠক একটি জমজমাট গল্প পড়ে যখন অভিভূত হন তখন এটিই প্রমাণীত হয় যে, লেখক খুব সফলভাবে কাজ করে সার্থক প্লট নির্মাণে দক্ষতা দেখিয়েছেন। সফল প্লট নির্মাণের কয়েকটি কৌশল আছে। যেমন: ক) সাসপেন্স বা অনিশ্চয়তা খ) পরিণতির পূর্বাভাস গ) অতীতের কথা বা স্মৃতিচারণ ঘ) গল্পের কাঠামো ঙ) অবাক করা সমাপ্তি।
ক) সাসপেন্স বা অনিশ্চয়তা: ছোটগল্প শুরু করতে হবে আকস্মিক একটি কথা বা ঘটনার সূত্রপাত দিয়ে যা পড়ে প্রথমে পাঠক চমৎকৃত হবেন ও গল্পের ভেতরে অজানা-অনিশ্চিত কী আছে তা জানার জন্য আগ্রহী হবেন। তাঁর ভেতরে গল্পের সম্পূর্ণ কাহিনী জানার জন্য একধরনের তাগিদ তৈরি হবে।
খ) পরিণতির পূর্বাভাস: পাঠককে এমন অনিশ্চিত, জটিল বা রহস্য আচ্ছন্ন কাহিনীতে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যা থেকে তিনি বিরক্ত হন। গল্প হতে হবে তার চেনাজানা মানুষজন ও পরিবেশ থেকে। এ কথার অর্থ এই নয় যে, কল্পনা ও রহস্যের জগৎ থেকে কিছু লেখা যাবে না। বস্তুত লেখক গল্পের কাহিনীতে অতিরিক্ত ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই কথা ও বর্ণনা দেবেন না। গল্পের কাহিনীতে পাঠককে ধীরে ধীরে নিয়ে যেতে যেতে লেখক গল্পের একটি পরিণতির আভাস দেবেন। এটি ভালো গল্পের জন্য জরুরি এবং তা পাঠকের মনের আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণ করে তোলে। লেখক গল্পের মাঝে মাঝে এমন কিছু ক্লু ছড়িয়ে দেবেন যা থেকে পাঠকের এই উপলব্ধি হয় যে, এটি তাঁর পরিচিত ভুবনের গল্প। তিনি অনুমান করতে পারেন যে, কাহিনীর পরবর্তী ধাপগুলো কী হতে যাচ্ছে।
গ) অতীতের কথা বা স্মৃতিচারণ: ছোটগল্পে এই কৌশলটি খুব সার্থকভাবে প্রয়োগ করা যায়। এখানে লেখক গল্পের সেই অংশটুকু বলতে পারেন যা কাহিনীর শুরুতে বলা হয়নি, কিন্তু কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোনো কথা বা ঘটনাগুলো বলা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল অনেক লেখক এই কৌশলটির সফল প্রয়োগ করেন যাতে পাঠকের মনে সেই পরিচিত মানুষজন আর ঘটনার বাস্তবতা দেখা যায়। এটি মূলত গল্পের প্লটের সেই পরিচিত অংশ যা পুরো কাহিনীর গতিময়তা দিয়ে থাকে।
ঘ) গল্পের কাঠামো: এটি হলো গল্পের ভেতরের গল্প অর্থাৎ লেখক যে গল্প বলতে শুরু করেছেন এবং সেজন্য নানান চরিত্র নির্মাণ করেছেন, সেই চরিত্রগুলোর নিজস্ব গল্প আছে আর সেসবের সুবিন্যস্ত উপস্থাপনা হলো গল্পের কাঠামো। ভালো প্লট একটি গল্পের কাঠামো ছাড়া তৈরি করা যায় না। এখানে লেখক গল্পের চরিত্র নির্মাণ ছাড়াও কল্পনাশক্তি, আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-ব্যর্থতা, পরিবেশ ও আমেজ নির্মাণ করে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে থাকেন।
ঙ) অবাক করা সমাপ্তি: লেখক যে আকস্মিক ও আকর্ষণীয় বাক্য নিয়ে গল্পের সূত্রপাত করেছেন তার সমাপ্তিও টেনে দেবেন এক আকস্মিক সমাপ্তি দিয়ে, যা হয়তো পাঠকের কাছে বিস্মিত এক পরিণতির মতো লাগে। সতর্ক পাঠক এমন একটি সমাপ্তির প্রত্যাশা করেন।
২) চরিত্র (Character):
ছোটগল্পে যে কেন্দ্রীয় চরিত্র থাকে তা অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রগুলো অপেক্ষা অনেক পরিস্ফুট ও স্বচ্ছ। মূলত গল্পের কাহিনী ও বর্ণনা তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এখানে লেখক সেই চরিত্রের পেছনের কথা ও বর্তমানের কথা বলেন। তার ভাবনা, উপলব্ধি, স্বপ্ন-সাধ, আশা-হতাশা, অভ্যাস, মনমানসিকতা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো গল্পের নিরিখে যেমন প্রযোজ্য তেমনভাবে লিখে থাকেন। একটি-দুটি কথাতে বা ঘটনাতে লেখক এই চরিত্রটির সার্বিক প্রতিচ্ছবি আঁকতে পারেন। অন্যান্য পার্শ্ব ও লঘু চরিত্রগুলোর কথা বাদ দেয়া যায় না, তবে তা কেন্দ্রীয় চরিত্রের মতো বিশদ নাও হতে পারে। লেখক যে চরিত্র সৃজন করেন ছোটগল্পের ক্ষেত্রে তাকে চরিত্রায়ন বলা যায়। লেখক সাধারণত দুটি মৌলিক কৌশল অনুসরনের দ্বারা চরিত্রায়ন বা চরিত্র সৃজন করে থাকেন। ১) সরাসরি চরিত্রের কথা বলা ২) ঘটনা বা চরিত্রের ভাবনা, উপলব্ধি, স্বপ্ন-সাধ, আশা-হতাশা, অভ্যাস, মনমানসিকতা ইত্যাদির মাধ্যমে পাঠকের কাছে চরিত্রটির মূর্ত রূপ তুলে ধরা।
গল্পের চরিত্র কাহিনীর প্রয়োজনে নানারকমের হতে পারে। লেখক নিজেই সৃষ্টি করেন তার কাহিনীর নায়ক-নায়িকা-ভিলেন-সহযোগিগণ কেমন মানুষ হবে। তারা কি পরিচিত ভূবনের নাকি কল্পনার জগতের? মূলত সফল গল্পের প্রয়োজনে পরিচিত ও বাস্তব বা বাস্তবের মতো চরিত্র সৃজন করা জরুরি। এই চরিত্রগুলোর মধ্যে নানান ঘটনা, সংঘাত, মিল-অমিল গল্পের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায় ও একটি পরিণতি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে লেখকের অভিজ্ঞতা ও কল্পনাশক্তি অনেক কাজ করে থাকে। লেখক তার কাহিনীর প্লট অনুসারে চরিত্রের প্রতিচ্ছবিকে নানাভাবে মূর্ত করে তোলেন। যেমন:
১) প্রধান বা কেন্দ্রীয় চরিত্র: এই চরিত্রটি সমগ্র গল্পে একটি বিশেষ ও স্বতন্ত্র ভূমিকা নিয়ে এগোবে। তার কথাবার্তা ঘটনা সংঘটন ইত্যাদিতে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট প্রকাশ পাবে। এই চরিত্রটি গল্পের কাহিনীর উদ্দেশ্য ও পরিণতিতে বড় ও মূল ভূমিকা রাখে।
২) পারিপার্শ্বক চরিত্র: এই চরিত্র বা চরিত্রগুলো গল্পের কাহিনীর বিস্তৃতির জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু তার বা তাদের অবস্থান ও ঘটনা প্রবাহ গল্পে অনেকটা অতিথির মতো। তাদের ভূমিকা গোলাপ প্রস্ফুটিত হওয়ার পেছনে গাছকে মাটির রসে সঞ্জীবিত করার মতো নেপথ্য শক্তি। পাঠক তাদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ‘কম’ পরিচিত হন, তাদের সীমিতভাবে দেখেন ও শোনেন কিন্তু কাহিনীর এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের ভূমিকা অনেক বেশি ও জরুরি।
৩) সরল ও অপরিবর্তনীয় চরিত্র: গল্পে এ চরিত্রগুলোর অবস্থান এক মতো অর্থাৎ পাঠকের মনে তাদের একই ধাঁচ ও ছবি ফুটে উঠে।
৪) পরিবর্তনশীল চরিত্র: এই চরিত্রগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে একক ব্যক্তিত্ব বা চরিত্র রূপলাভ করে থাকে।
৫) নিশ্চল বা স্থির চরিত্র: এ চরিত্রটির বৈশিষ্ট হলো এগুলো গল্পের মধ্যে পরিবর্তিত হয় না। নিশ্চল একটি ভূমিকা নিয়ে থাকে।
৬) গতিময় চরিত্র: এ চরিত্রটি গল্পের কাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ঘটনার সূত্রপাত করে গল্পকে গতিশীল করে থাকে।
৭) স্টিরিওটাইপড্ বা ছাঁচে ঢালা চরিত্র: এ চরিত্রগুলো আমাদের অতি জানাশোনা ও পরিচিত ব্যক্তি যাদের আগমন, আচরণ খুব চেনা ও আগাম বলে দেয়া যায় যে, তারা কী করবে।
লেখক তার গল্পের কাহিনীর প্রয়োজন অনুসারে চরিত্রগুলোর সমাবেশ করেন। তাদের দ্বারা নানান কথা বলান, ঘটনা ঘটান এবং গল্পকে সমাপ্তির দিকে নিয়ে যান। এই চরিত্রগুলো কখনো সরাসরি বা প্রত্যক্ষ আবার কখনো প্রচ্ছন্ন বা পরোক্ষভাবে উপস্থাপিত হয়। যেমন: আমরা যদি অধ্যাপকের একটি চরিত্র উপস্থাপন করতে চাই, তখন সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে বলতে পারি, তিনি একজন অধ্যাপক, কলেজে শিক্ষকতা করেন। আবার পরোক্ষভাবে যদি দেখানো যায় যে, তিনি কলেজের ক্লাসে পড়াচ্ছেন তাহলে সহজে বোঝা যায় যে চরিত্রটি কলেজের শিক্ষক বা অধ্যাপক।
৩) সেটিং (Setting):
গল্পের কাহিনীতে যে সময় ও স্থানের কথা বলা হয় অর্থাৎ ঘটনাটি কোন্ জায়গার এবং সময়ের সেটিকে গল্পের সেটিং বলা যায়। স্পষ্টভাবে বলতে গেলে গল্পের কাহিনী অমুক জায়গায় অমুক সময়ে ঘটেছে বা ঘটছে, এমন একটি প্রেক্ষাপটকে গল্পের সেটিং বলে। সাধারণত লেখক কাহিনীর বাস্তবতার আবহ তৈরি করতে জায়গা ও সময়ের বর্ণনা করে থাকেন। গল্পের মধ্যে যদি বলা হয়, ফুটবল খেলার মাঠ, সময় বিকেলবেলা এবং ঝিপঝিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে, তাহলে পাঠকের মনে ঠিক অনুরূপ একটি ছবি ভেসে উঠে। এই সেটিং’এর উপর চরিত্রগুলোর নানান ভূমিকা, ঘটনাপ্রবাহ, ধারনা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত ইত্যাদি বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে, তেমনভাবে বাস্তবানুগ মনে হয় এবং গল্প এগিয়ে চলে। পাঠক প্রথমেই এই সেটিং’কে ধরে গল্পের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ধীরে ধীরে মিশে যান। মূলত সেটিং’এর মাধ্যমে লেখক তার কাহিনীকে দৃশ্যমান করার সুযোগ লাভ করেন। কোনো কোনো লেখক সেটিং’কে ক্রমানুসারে ধীরে ধীরে উপস্থাপন করেন, প্রয়োজন মতো জমিয়ে বিবরণ দেন আবার কোনো কোনো লেখক খুব বেশি প্রাধান্য না দিয়ে চরিত্রগুলোর মাধ্যমে গল্পের সেটিংস কাহিনীতে তুলে ধরেন। তবে যেভাবেই হোক না কেন গল্পে সেটিং আবশ্যক।
কয়েকটি পদ্ধতিতে সেটিং গড়ে তোলা বা উপস্থাপন করা যায়। যেমন: ১) ডায়লগ: গল্পের চরিত্র বা চরিত্রগুলোর কথার মাধ্যমে সেটিং তুলে ধরা যায়। দৃষ্টান্ত: একটি চরিত্র আর এক চরিত্রকে উদ্বেগের সাথে বলছে, এতরাতে না গেলেই কি নয়? ২) শব্দের মাধ্যমে সেটিং তুলে ধরা যায়। দৃষ্টান্ত: দূর হতে ভেসে আসা ট্রেনের হুইসিলের শব্দে বোঝা যায় একটি ট্রেন কিছুক্ষণ পর চলে যাবে এবং জায়গাটা রেল ইস্টিশান বা লাইনের কাছাকাছি। গন্ধের বর্ণনা দিয়ে। দৃষ্টান্ত: তরকারি পোড়ার গন্ধের কথা দিয়ে লেখক রান্নাঘরের ছবি আঁকতে পারেন।
পাঠক গল্পের কাহিনীতে সেটিং’কে ধরে এগিয়ে যান কেননা মানুষের স্বভাব, ভিন্নতা, বসবাস, ভাবনা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, ঐতিহ্য, পেশা, পরিবেশ, পরিস্থিতি, জীবন প্রবাহ ও জটিলতা ইত্যাদির সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা গল্পের মধ্যে সেটিকে দেখতে পছন্দ করেন। গল্পের মধ্যে চরিত্রগুলোর ভাবনা ও এ্যকশন সেটিং’এর দ্বারা প্রভাবিত হয় অথবা উল্টোটিও হতে পারে যে, তাদের ওই সমস্ত ভাবনা ও এ্যকশন সেটিং তৈরি করছে। এটি কিভাবে সাধিত হয়, একটু দেখা যাক। ১) সময়: গল্পের কাহিনীতে বর্ণিত সময় গল্পের পুরো প্লটকে প্রভাবিত করে। দৃষ্টান্ত: গভীর রাতে গল্পের চরিত্র এক ভুতুড়ে বাড়িতে এসেছে। এখানে পাঠকের মনে ভয় মিশ্রিত এক কৌতূহলের সৃষ্টি করে। ২) জায়গা বা স্থান: গল্পের কাহিনীকে এটিও প্রভাবিত করে। দৃষ্টান্ত: যানজটপূর্ণ সড়কের উল্লেখ করলে আমরা খুব সহজেই সেই দৃশ্যটি চোখে ভেসে উঠতে দেখি। ৩) ঘটনা: ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ঘটনার সংঘটন সেটিং বুঝতে সহায়তা করে। যেমন: চলন্ত বাস থেকে এক যাত্রী লাফ দিয়ে নেমে গেল।
৪) থীম (Theme):
একটি সার্থক ছোটগল্প তা সিরিয়াস বা সাধারণভাবে ভালো লেখা হলেও অবশ্যই সুখপাঠ্য। কেননা এটি মানুষের জীবন ও জগতের কথা বলে। পাঠক গল্পের কাহিনীতে বিধৃত ঘটনা, ঘটনার পেছনের ঘটনা, চরিত্র ও চরিত্রগুলোর বিভিন্ন এ্যকশন পড়েন এবং তাঁর নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ, বিচার-বিবেচনা, জানাশোনা, দেখা বা অভিজ্ঞতার সাথে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে মিলিয়ে নেন। মূলত জীবনের এই বিষয়টি যা গল্পে লেখা হয় সেটিই গল্পের থীম। পাঠক গল্প শেষ করার পর এটি বুঝতে পারেন যে, মূলত এই বক্তব্য বা আমেজ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই গল্পটি। তবে অধিকাংশ ছোটগল্পে গল্পের থীম সরাসরি বলা হয় না। এখানে পাঠক পড়া শেষে নিজেই সেটি তৈরি করে নেন। তিনি তাঁর ধী শক্তি বলে বক্তব্যটির একটি ছবি এঁকে নেন এবং সাধারণভাবে একটি উপসংহার বা সমাপ্তিতে আসেন। লেখক তার গল্পের থীম বেশ কিছু পদ্ধতিতে প্রকাশ করতে পারেন। ১) সরাসরি গল্পের শিরোনাম বা পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের মাধ্যমে মুল বক্তব্য সম্পর্কে আভাষ দিয়ে। ২) গল্পের ভেতর কোনো একটি অংশে চরিত্রের অভিজ্ঞতা বর্ণনার মধ্য দিয়ে। ৩) গল্পের চরিত্রের কোনো উক্তি দিয়ে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও ছোটগল্পের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় যথেষ্ট মনোযোগের দাবি রাখে। যেমন:
১) গল্পের একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম একটি সম্পদ। এ কথাকে সামনে রেখে গল্পের শিরোনাম ঠিক করতে হয়। এটি হবে ছোট, আকর্ষণীয়, বিষয় ও থীম সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ গল্পটি যদি মঙ্গল গ্রহে অভিযান সম্পর্কিত হয় তাহলে ‘মঙ্গল গ্রহে অভিযান’ হতে পারে। যদি কোনো চরিত্রের বধু খোঁজা নিয়ে কৌতুক বা রম্য গল্প হয় তাহলে ‘বধু অন্বেষণ’ ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে। শিরোনাম দেয়ার ক্ষেত্রে লেখকের দক্ষতা সবচেয়ে গরুত্বপূর্ণ। এমন শিরোনাম দেয়া উচিৎ যা শুধু আকর্ষণীয় হবে না, উপযুক্ত শব্দচয়ন ও বিন্যাসনির্ভর যা পাঠকের মনে কৌতূহল জাগাবে। শিরোনাম কখনোই দীর্ঘ ও অপ্রাসঙ্গিক হবে না। বলা হয়ে থাকে একটি ভালো শিরোনাম গল্পকে মূল্যবান করে তোলে।
২) লেখার বিষয়ে নির্ভুল বানান, সঠিক শব্দচয়ন ও মার্জিত বাক্যের ধারাবাহিকতা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ করা শ্রেয়। খাপছাড়া ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের বাহুল্য বর্জন করতে হবে। অনুরূপভাবে রিপিটেশন করাও বর্জনীয়।
৩) গল্পের আকার হতে হবে সহনীয় পর্যায়ের। তবে এক্ষেত্রে নানাজনের ভিন্ন ভিন্ন কথা রয়েছে। কেউ ছোটগল্পকে ১৫০০ থেকে ৩০০০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চান। কেউ কেউ আবার বলে থাকেন যে, ছোটগল্প আকারে হবে ৩০০০ থেকে ৪০০০ শব্দের মধ্যে, কিন্তু কোনোক্রমেই ৩৬০০ থেকে ৪৩০০ শব্দের অতিরিক্তি হবে না। আবার এটাও দেখা যায় যে, কোনো কোনো ছোটগল্প মলাটবদ্ধ বইয়ের পৌণে একপৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে। কেউ কেউ এগুলোকে অনুগল্প বলে থাকেন। দেখা যায়, লেখক ছোটগল্প রচনায় তার পরিধির বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা আদায় করে নেন। তবে যারা সংবাদপত্রে ছোটগল্প লিখতে আগ্রহী তাদের উচিৎ হবে একটি ছোটগল্পের আকার ১৫০০ থেকে ১৮০০ শব্দের মধ্যে সীমিত রাখতে।
৪) গল্পে বর্ণিত বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, চরিত্রগুলোর বাস্তবতা যুক্তিযুক্ত করা উচিৎ। যে তথ্য ও তত্ত্ব গল্পে এসে যায় তা সঠিক হতে হবে। কেননা পাঠক আজগুবি বা ভুল তথ্য দ্বারা বিরক্ত হন। তেমনভাবে কোনো জ্ঞান দেখানো ও সেকেন্ড হ্যান্ড ইনফরমেশন দেয়ার চেষ্টা করা যাবে না।
৫) গল্পের কাহিনীতে নানান মিশ্র থীমের সমাবেশ না ঘটানোই শ্রেয়। একটি বক্তব্য একটি গল্পের জন্য যথেষ্ট। প্রয়োজনে ভিন্ন থীমের জন্য ভিন্ন গল্প লেখা যেতে পারে। গল্পে মূল বক্তব্যের বারবার উল্লেখ পরিহার করা দরকার। আবার ভাষার নানান কারুকাজ দেখাতে গিয়ে যেন দুর্বোধ্য বা প্রবন্ধের মতো কঠোর না হয়, সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে।
ছোটগল্প সাহিত্যের একটি অতি মূল্যবান অংশ। এর সম্ভাবনা ও পাঠক অনেক। ছোটগল্প শুরু থেকে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পথ পেরিয়ে চলেছে। এখন কোনো ফর্মুলায় ফেলে হয়তো ছোটগল্পের জ্যামিতি খোঁজা যায় না। তারপরও একটি কাঠামোকে লেখকগণ অনুসরণ করে থাকেন। তাঁরা স্ব-স্ব দক্ষতা, পছন্দ, লেখার স্টাইল ধরে ছোটগল্প পাঠকদের উপহার দিয়ে চলেছেন।
মূল লেখক:
জনাব মাহবুব আলী।
ছোটগল্পের প্লট ও চরিত্র নির্মাণের কৌশল (সংগৃহীত)
ছোটগল্পের প্লট ও চরিত্র নির্মাণের কৌশল (সংগৃহীত)
পন্ডিত মাহী ৫ অক্টোবর, ২০১২
==========================================
==========================================
ছোটগল্পের প্লট ও চরিত্র নির্মাণের কৌশল
সফল প্লট নির্মাণের কৌশল:
একটি ভালো গল্পের মূল ভিত্তি প্লটের সফলতার উপর নির্ভর করে। বলা যায়, পাঠক একটি জমজমাট গল্প পড়ে যখন অভিভূত হন তখন এটিই প্রমাণীত হয় যে, লেখক খুব সফলভাবে কাজ করে সার্থক প্লট নির্মাণে দক্ষতা দেখিয়েছেন। সফল প্লট নির্মাণের কয়েকটি কৌশল আছে। যেমন:
সফল প্লট নির্মাণের কৌশল:
একটি ভালো গল্পের মূল ভিত্তি প্লটের সফলতার উপর নির্ভর করে। বলা যায়, পাঠক একটি জমজমাট গল্প পড়ে যখন অভিভূত হন তখন এটিই প্রমাণীত হয় যে, লেখক খুব সফলভাবে কাজ করে সার্থক প্লট নির্মাণে দক্ষতা দেখিয়েছেন। সফল প্লট নির্মাণের কয়েকটি কৌশল আছে। যেমন:
ক) সাসপেন্স বা অনিশ্চয়তা
খ) পরিণতির পূর্বাভাস
গ) অতীতের কথা বা স্মৃতিচারণ
ঘ) গল্পের কাঠামো
ঙ) অবাক করা সমাপ্তি।
ক) সাসপেন্স বা অনিশ্চয়তা: ছোটগল্প শুরু করতে হবে আকস্মিক একটি কথা বা ঘটনার সূত্রপাত দিয়ে যা পড়ে প্রথমে পাঠক চমৎকৃত হবেন ও গল্পের ভেতরে অজানা-অনিশ্চিত কী আছে তা জানার জন্য আগ্রহী হবেন। তাঁর ভেতরে গল্পের সম্পূর্ণ কাহিনী জানার জন্য একধরনের তাগিদ তৈরি হবে।
খ) পরিণতির পূর্বাভাস: পাঠককে এমন অনিশ্চিত, জটিল বা রহস্য আচ্ছন্ন কাহিনীতে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যা থেকে তিনি বিরক্ত হন। গল্প হতে হবে তার চেনাজানা মানুষজন ও পরিবেশ থেকে। এ কথার অর্থ এই নয় যে, কল্পনা ও রহস্যের জগৎ থেকে কিছু লেখা যাবে না। বস্তুত লেখক গল্পের কাহিনীতে অতিরিক্ত ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই কথা ও বর্ণনা দেবেন না। গল্পের কাহিনীতে পাঠককে ধীরে ধীরে নিয়ে যেতে যেতে লেখক গল্পের একটি পরিণতির আভাস দেবেন। এটি ভালো গল্পের জন্য জরুরি এবং তা পাঠকের মনের আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণ করে তোলে। লেখক গল্পের মাঝে মাঝে এমন কিছু ক্লু ছড়িয়ে দেবেন যা থেকে পাঠকের এই উপলব্ধি হয় যে, এটি তাঁর পরিচিত ভুবনের গল্প। তিনি অনুমান করতে পারেন যে, কাহিনীর পরবর্তী ধাপগুলো কী হতে যাচ্ছে।
গ) অতীতের কথা বা স্মৃতিচারণ: ছোটগল্পে এই কৌশলটি খুব সার্থকভাবে প্রয়োগ করা যায়। এখানে লেখক গল্পের সেই অংশটুকু বলতে পারেন যা কাহিনীর শুরুতে বলা হয়নি, কিন্তু কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোনো কথা বা ঘটনাগুলো বলা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল অনেক লেখক এই কৌশলটির সফল প্রয়োগ করেন যাতে পাঠকের মনে সেই পরিচিত মানুষজন আর ঘটনার বাস্তবতা দেখা যায়। এটি মূলত গল্পের প্লটের সেই পরিচিত অংশ যা পুরো কাহিনীর গতিময়তা দিয়ে থাকে।
ঘ) গল্পের কাঠামো: এটি হলো গল্পের ভেতরের গল্প অর্থাৎ লেখক যে গল্প বলতে শুরু করেছেন এবং সেজন্য নানান চরিত্র নির্মাণ করেছেন, সেই চরিত্রগুলোর নিজস্ব গল্প আছে আর সেসবের সুবিন্যস্ত উপস্থাপনা হলো গল্পের কাঠামো। ভালো প্লট একটি গল্পের কাঠামো ছাড়া তৈরি করা যায় না। এখানে লেখক গল্পের চরিত্র নির্মাণ ছাড়াও কল্পনাশক্তি, আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-ব্যর্থতা, পরিবেশ ও আমেজ নির্মাণ করে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে থাকেন।
ঙ) অবাক করা সমাপ্তি: লেখক যে আকস্মিক ও আকর্ষণীয় বাক্য নিয়ে গল্পের সূত্রপাত করেছেন তার সমাপ্তিও টেনে দেবেন এক আকস্মিক সমাপ্তি দিয়ে, যা হয়তো পাঠকের কাছে বিস্মিত এক পরিণতির মতো লাগে। সতর্ক পাঠক এমন একটি সমাপ্তির প্রত্যাশা করেন।
চরিত্র (Character):
ছোটগল্পে যে কেন্দ্রীয় চরিত্র থাকে তা অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রগুলো অপেক্ষা অনেক পরিস্ফুট ও স্বচ্ছ। মূলত গল্পের কাহিনী ও বর্ণনা তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এখানে লেখক সেই চরিত্রের পেছনের কথা ও বর্তমানের কথা বলেন। তার ভাবনা, উপলব্ধি, স্বপ্ন-সাধ, আশা-হতাশা, অভ্যাস, মনমানসিকতা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো গল্পের নিরিখে যেমন প্রযোজ্য তেমনভাবে লিখে থাকেন। একটি-দুটি কথাতে বা ঘটনাতে লেখক এই চরিত্রটির সার্বিক প্রতিচ্ছবি আঁকতে পারেন। অন্যান্য পার্শ্ব ও লঘু চরিত্রগুলোর কথা বাদ দেয়া যায় না, তবে তা কেন্দ্রীয় চরিত্রের মতো বিশদ নাও হতে পারে। লেখক যে চরিত্র সৃজন করেন ছোটগল্পের ক্ষেত্রে তাকে চরিত্রায়ন বলা যায়। লেখক সাধারণত দুটি মৌলিক কৌশল অনুসরনের দ্বারা চরিত্রায়ন বা চরিত্র সৃজন করে থাকেন।
খ) পরিণতির পূর্বাভাস
গ) অতীতের কথা বা স্মৃতিচারণ
ঘ) গল্পের কাঠামো
ঙ) অবাক করা সমাপ্তি।
ক) সাসপেন্স বা অনিশ্চয়তা: ছোটগল্প শুরু করতে হবে আকস্মিক একটি কথা বা ঘটনার সূত্রপাত দিয়ে যা পড়ে প্রথমে পাঠক চমৎকৃত হবেন ও গল্পের ভেতরে অজানা-অনিশ্চিত কী আছে তা জানার জন্য আগ্রহী হবেন। তাঁর ভেতরে গল্পের সম্পূর্ণ কাহিনী জানার জন্য একধরনের তাগিদ তৈরি হবে।
খ) পরিণতির পূর্বাভাস: পাঠককে এমন অনিশ্চিত, জটিল বা রহস্য আচ্ছন্ন কাহিনীতে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যা থেকে তিনি বিরক্ত হন। গল্প হতে হবে তার চেনাজানা মানুষজন ও পরিবেশ থেকে। এ কথার অর্থ এই নয় যে, কল্পনা ও রহস্যের জগৎ থেকে কিছু লেখা যাবে না। বস্তুত লেখক গল্পের কাহিনীতে অতিরিক্ত ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই কথা ও বর্ণনা দেবেন না। গল্পের কাহিনীতে পাঠককে ধীরে ধীরে নিয়ে যেতে যেতে লেখক গল্পের একটি পরিণতির আভাস দেবেন। এটি ভালো গল্পের জন্য জরুরি এবং তা পাঠকের মনের আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণ করে তোলে। লেখক গল্পের মাঝে মাঝে এমন কিছু ক্লু ছড়িয়ে দেবেন যা থেকে পাঠকের এই উপলব্ধি হয় যে, এটি তাঁর পরিচিত ভুবনের গল্প। তিনি অনুমান করতে পারেন যে, কাহিনীর পরবর্তী ধাপগুলো কী হতে যাচ্ছে।
গ) অতীতের কথা বা স্মৃতিচারণ: ছোটগল্পে এই কৌশলটি খুব সার্থকভাবে প্রয়োগ করা যায়। এখানে লেখক গল্পের সেই অংশটুকু বলতে পারেন যা কাহিনীর শুরুতে বলা হয়নি, কিন্তু কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোনো কথা বা ঘটনাগুলো বলা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল অনেক লেখক এই কৌশলটির সফল প্রয়োগ করেন যাতে পাঠকের মনে সেই পরিচিত মানুষজন আর ঘটনার বাস্তবতা দেখা যায়। এটি মূলত গল্পের প্লটের সেই পরিচিত অংশ যা পুরো কাহিনীর গতিময়তা দিয়ে থাকে।
ঘ) গল্পের কাঠামো: এটি হলো গল্পের ভেতরের গল্প অর্থাৎ লেখক যে গল্প বলতে শুরু করেছেন এবং সেজন্য নানান চরিত্র নির্মাণ করেছেন, সেই চরিত্রগুলোর নিজস্ব গল্প আছে আর সেসবের সুবিন্যস্ত উপস্থাপনা হলো গল্পের কাঠামো। ভালো প্লট একটি গল্পের কাঠামো ছাড়া তৈরি করা যায় না। এখানে লেখক গল্পের চরিত্র নির্মাণ ছাড়াও কল্পনাশক্তি, আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-ব্যর্থতা, পরিবেশ ও আমেজ নির্মাণ করে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে থাকেন।
ঙ) অবাক করা সমাপ্তি: লেখক যে আকস্মিক ও আকর্ষণীয় বাক্য নিয়ে গল্পের সূত্রপাত করেছেন তার সমাপ্তিও টেনে দেবেন এক আকস্মিক সমাপ্তি দিয়ে, যা হয়তো পাঠকের কাছে বিস্মিত এক পরিণতির মতো লাগে। সতর্ক পাঠক এমন একটি সমাপ্তির প্রত্যাশা করেন।
চরিত্র (Character):
ছোটগল্পে যে কেন্দ্রীয় চরিত্র থাকে তা অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রগুলো অপেক্ষা অনেক পরিস্ফুট ও স্বচ্ছ। মূলত গল্পের কাহিনী ও বর্ণনা তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এখানে লেখক সেই চরিত্রের পেছনের কথা ও বর্তমানের কথা বলেন। তার ভাবনা, উপলব্ধি, স্বপ্ন-সাধ, আশা-হতাশা, অভ্যাস, মনমানসিকতা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো গল্পের নিরিখে যেমন প্রযোজ্য তেমনভাবে লিখে থাকেন। একটি-দুটি কথাতে বা ঘটনাতে লেখক এই চরিত্রটির সার্বিক প্রতিচ্ছবি আঁকতে পারেন। অন্যান্য পার্শ্ব ও লঘু চরিত্রগুলোর কথা বাদ দেয়া যায় না, তবে তা কেন্দ্রীয় চরিত্রের মতো বিশদ নাও হতে পারে। লেখক যে চরিত্র সৃজন করেন ছোটগল্পের ক্ষেত্রে তাকে চরিত্রায়ন বলা যায়। লেখক সাধারণত দুটি মৌলিক কৌশল অনুসরনের দ্বারা চরিত্রায়ন বা চরিত্র সৃজন করে থাকেন।
১) সরাসরি চরিত্রের কথা বলা
২) ঘটনা বা চরিত্রের ভাবনা, উপলব্ধি, স্বপ্ন-সাধ, আশা-হতাশা, অভ্যাস, মনমানসিকতা ইত্যাদির মাধ্যমে পাঠকের কাছে চরিত্রটির মূর্ত রূপ তুলে ধরা।
গল্পের চরিত্র কাহিনীর প্রয়োজনে নানারকমের হতে পারে। লেখক নিজেই সৃষ্টি করেন তার কাহিনীর নায়ক-নায়িকা-ভিলেন-সহযোগিগণ কেমন মানুষ হবে। তারা কি পরিচিত ভূবনের নাকি কল্পনার জগতের? মূলত সফল গল্পের প্রয়োজনে পরিচিত ও বাস্তব বা বাস্তবের মতো চরিত্র সৃজন করা জরুরি। এই চরিত্রগুলোর মধ্যে নানান ঘটনা, সংঘাত, মিল-অমিল গল্পের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায় ও একটি পরিণতি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে লেখকের অভিজ্ঞতা ও কল্পনাশক্তি অনেক কাজ করে থাকে। লেখক তার কাহিনীর প্লট অনুসারে চরিত্রের প্রতিচ্ছবিকে নানাভাবে মূর্ত করে তোলেন। যেমন:
১) প্রধান বা কেন্দ্রীয় চরিত্র: এই চরিত্রটি সমগ্র গল্পে একটি বিশেষ ও স্বতন্ত্র ভূমিকা নিয়ে এগোবে। তার কথাবার্তা ঘটনা সংঘটন ইত্যাদিতে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট প্রকাশ পাবে। এই চরিত্রটি গল্পের কাহিনীর উদ্দেশ্য ও পরিণতিতে বড় ও মূল ভূমিকা রাখে।
২) পারিপার্শ্বক চরিত্র: এই চরিত্র বা চরিত্রগুলো গল্পের কাহিনীর বিস্তৃতির জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু তার বা তাদের অবস্থান ও ঘটনা প্রবাহ গল্পে অনেকটা অতিথির মতো। তাদের ভূমিকা গোলাপ প্রস্ফুটিত হওয়ার পেছনে গাছকে মাটির রসে সঞ্জীবিত করার মতো নেপথ্য শক্তি। পাঠক তাদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ‘কম’ পরিচিত হন, তাদের সীমিতভাবে দেখেন ও শোনেন কিন্তু কাহিনীর এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের ভূমিকা অনেক বেশি ও জরুরি।
৩) সরল ও অপরিবর্তনীয় চরিত্র: গল্পে এ চরিত্রগুলোর অবস্থান এক মতো অর্থাৎ পাঠকের মনে তাদের একই ধাঁচ ও ছবি ফুটে উঠে।
৪) পরিবর্তনশীল চরিত্র: এই চরিত্রগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে একক ব্যক্তিত্ব বা চরিত্র রূপলাভ করে থাকে।
৫) নিশ্চল বা স্থির চরিত্র: এ চরিত্রটির বৈশিষ্ট হলো এগুলো গল্পের মধ্যে পরিবর্তিত হয় না। নিশ্চল একটি ভূমিকা নিয়ে থাকে।
৬) গতিময় চরিত্র: এ চরিত্রটি গল্পের কাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ঘটনার সূত্রপাত করে গল্পকে গতিশীল করে থাকে।
৭) স্টিরিওটাইপড্ বা ছাঁচে ঢালা চরিত্র: এ চরিত্রগুলো আমাদের অতি জানাশোনা ও পরিচিত ব্যক্তি যাদের আগমন, আচরণ খুব চেনা ও আগাম বলে দেয়া যায় যে, তারা কী করবে।
লেখক তার গল্পের কাহিনীর প্রয়োজন অনুসারে চরিত্রগুলোর সমাবেশ করেন। তাদের দ্বারা নানান কথা বলান, ঘটনা ঘটান এবং গল্পকে সমাপ্তির দিকে নিয়ে যান। এই চরিত্রগুলো কখনো সরাসরি বা প্রত্যক্ষ আবার কখনো প্রচ্ছন্ন বা পরোক্ষভাবে উপস্থাপিত হয়। যেমন: আমরা যদি অধ্যাপকের একটি চরিত্র উপস্থাপন করতে চাই, তখন সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে বলতে পারি, তিনি একজন অধ্যাপক, কলেজে শিক্ষকতা করেন। আবার পরোক্ষভাবে যদি দেখানো যায় যে, তিনি কলেজের ক্লাসে পড়াচ্ছেন তাহলে সহজে বোঝা যায় যে চরিত্রটি কলেজের শিক্ষক বা অধ্যাপক।
শুক্রবার, ১৬ মে, ২০১৪
বাংলা ছন্দ
শুভেচ্ছাছন্দ : কাব্যের রসঘন ও শ্রুতিমধুর বাক্যে সুশৃঙ্খল ধ্বনিবিন্যাসের ফলে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি হয় তাকে ছন্দ বলে। (বাঙলা ছন্দ : জীবেন্দ্র সিংহরায়)
অর্থাৎ, কবি তার কবিতার ধ্বনিগুলোকে যে সুশৃঙ্খল বিন্যাসে বিন্যস্ত করে তাতে এক বিশেষ ধ্বনিসুষমা দান করেন, যার ফলে কবিতাটি পড়ার সময় পাঠক এক ধরনের ধ্বনিমাধুর্য উপভোগ করেন, ধ্বনির সেই সুশৃঙ্খল বিন্যাসকেই ছন্দ বলা হয়।
বিভিন্ন প্রকার ছন্দ সম্পর্কে জানার পূর্বে ছন্দের কিছু উপকরণ সম্পর্কে জেনে নেয়া জরুরি। আর ছন্দ সম্পর্কে পড়ার আগে আরেকটা জিনিস মাথায় রাখা দরকার- ছন্দ সর্বদা উচ্চারণের সাথে সম্পর্কিত, বানানের সঙ্গে নয়।
অক্ষর : (বাগযন্ত্রের) স্বল্পতম প্রয়াসে বা এক ঝোঁকে শব্দের যে অংশটুকু উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বা দল বলে। এই অক্ষর অনেকটাই ইংরেজি Syllable-র মত। যেমন-
শর্বরী- শর, বো, রী- ৩ অক্ষর
চিরজীবী- চি, রো, জী, বী- ৪ অক্ষর
কুঞ্জ- কুন, জো- ২ অক্ষর
যতি বা ছন্দ-যতি : কোন বাক্য পড়ার সময় শ্বাসগ্রহণের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে অন্তর অন্তর যে উচ্চারণ বিরতি নেয়া হয়, তাকে ছন্দ-যতি বা শ্বাস-যতি বলে।
যতি মূলত ২ প্রকার- হ্রস্ব যতি ও দীর্ঘ যতি। অল্পক্ষণ বিরতির জন্য সাধারণত বাক্য বা পদের মাঝখানে হ্রস্ব যতি দেওয়া হয়। আর বেশিক্ষণ বিরতির জন্য, সাধারণত বাক্য বা পদের শেষে দীর্ঘ যতি ব্যবহৃত হয়।
পর্ব : বাক্য বা পদের এক হ্রস্ব যতি হতে আরেক হ্রস্ব যতি পর্যন্ত অংশকে পর্ব বলা হয়। যেমন-
একলা ছিলেম ∣ কুয়োর ধারে ∣ নিমের ছায়া ∣ তলে ∣∣
কলস নিয়ে ∣ সবাই তখন ∣ পাড়ায় গেছে ∣ চলে ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
( ∣ - হ্রস্ব যতি ও ∣∣ - দীর্ঘ যতি)
এখানে একলা ছিলেম, কুয়োর ধারে, নিমের ছায়া, তলে- প্রতিটিই একেকটি পর্ব; মানে প্রতিটি চরণে ৪টি করে পর্ব।
মাত্রা : একটি অক্ষর উচ্চারণে যে সময় প্রয়োজন হয়, তাকে মাত্রা বলে। বাংলায় এই মাত্রাসংখ্যার নির্দিষ্ট নয়, একেক ছন্দে একেক অক্ষরের মাত্রাসংখ্যা একেক রকম হয়। মূলত, এই মাত্রার ভিন্নতাই বাংলা ছন্দগুলোর ভিত্তি। বিভিন্ন ছন্দে মাত্রাগণনার রীতি বিভিন্ন ছন্দের আলোচনায় দেয়া আছে।
শ্বাসাঘাত : প্রায়ই বাংলা কবিতা পাঠ করার সময় পর্বের প্রথম অক্ষরের উপর একটা আলাদা জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত জোর দিয়ে পাঠ করা বা আবৃত্তি করাকেই বলা হয় শ্বাসাঘাত বা প্রস্বর। যেমন-
আমরা আছি ∣ হাজার বছর ∣ ঘুমের ঘোরের ∣ গাঁয়ে ∣∣
আমরা ভেসে ∣ বেড়াই স্রোতের ∣ শেওলা ঘেরা ∣ নায়ে ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
এখানে প্রতিটি পর্বের প্রথম অক্ষরই একটু ঝোঁক দিয়ে, জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত ঝোঁক বা জোরকেই শ্বাসাঘাত বলে।
পদ ও চরণ : দীর্ঘ যতি বা পূর্ণ যতি ছাড়াও এই দুই যতির মধ্যবর্তী বিরতির জন্য মধ্যযতি ব্যবহৃত হয় । দুই দীর্ঘ যতির মধ্যবর্তী অংশকে চরণ বলে, আর মধ্য যতি দ্বারা চরণকে বিভক্ত করা হলে সেই অংশগুলোকে বলা হয় পদ। যেমন-
তরুতলে আছি ∣ একেলা পড়িয়া ⊥ দলিত পত্র ∣ শয়নে ∣∣
তোমাতে আমাতে ∣ রত ছিনু যবে ⊥ কাননে কুসুম ∣ চয়নে∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
(এখানে ⊥ দ্বারা মধ্যযতি চিহ্নিত করা হয়েছে।)
পূর্ণযতি দ্বারা আলাদা করা দুইটি অংশই চরণ; আর চরণের মধ্যযতি দিয়ে পৃথক করা অংশগুলো পদ। এরকম-
যা আছে সব ∣ একেবারে ⊥
করবে অধি ∣ কার ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
স্তবক : অনেকগুলো চরণ নিয়ে একটি স্তবক গঠিত হয়। সাধারণত, একটি স্তবকে একটি ভাব প্রকাশিত হয়।
মিল : একাধিক পদ, পর্ব বা চরণের শেষে একই রকম ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছের ব্যবহারকে মিল বলে। অলংকারের ভাষায় একে বলে অনুপ্রাস। সাধারণত, মিল পদের শেষে থাকলেও শুরুতে বা মাঝেও মিল থাকতে পারে। পদের শেষের মিলকে অন্ত্যমিল বলে। যেমন-
মুখে দেয় জল ∣ শুধায় কুশল ∣ শিরে নাই মোর ∣ হাত ∣∣
দাঁড়ায়ে নিঝুম ∣ চোখে নাই ঘুম ∣ মুখে নাই তার ∣ ভাত ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
এখানে, প্রথম চরণের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের শেষের পদদুটিতে অন্ত্যমিল (অল) আছে; দ্বিতীয় চরণের প্রথম দুই পদের শেষেও অন্ত্যমিল আছে (উম)। আবার দ্বিতীয় চরণের প্রথম দুই পদের শেষের ধ্বনি (ম) তৃতীয় পদের শুরুতে ব্যবহৃত হয়ে আরেকটি মিল সৃষ্টি করেছে। আর দুই চরণের শেষের পদেও অন্ত্যমিল আছে (আত)।
এবার, সুকান্ত ভট্টাচর্যের আঠারো বছর বয়স- কবিতার প্রথম দুটি স্তবকের ছন্দের এসব উপকরণ নিয়ে আলোচনা করলে বুঝতে সুবিধা হতে পারে।
আঠারো বছর বয়স
সুকান্ত ভট্টাচার্য
আঠারো বছর ∣ বয়স কী দুঃ ∣ সহ ∣∣
স্পর্ধায় নেয় ∣ মাথা তোলবার ∣ ঝুঁকি, ∣∣
আঠারো বছর ∣ বয়সেই অহ ∣ রহ ∣∣
বিরাট দুঃসা ∣ হসেরা দেয় যে ∣ উঁকি। ∣∣∣
আঠারো বছর ∣ বয়সের নেই ∣ ভয় ∣∣
পদাঘাতে চায় ∣ ভাঙতে পাথর ∣ বাধা, ∣∣
এ বয়সে কেউ ∣ মাথা নোয়াবার ∣ নয়- ∣∣
আঠারো বছর ∣ বয়স জানে না ∣ কাঁদা। ∣∣
উপরে কবিতাটির ছন্দ যতির স্থান নির্দেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এর পর্ব, পদ ও চরণ একরকম নির্দেশিত হয়েছে। প্রতিটি চরণে তিনটি পর্ব রয়েছে; প্রথম দুটি পর্ব ৬ মাত্রার, শেষ পর্বে ২ মাত্রার (মাত্রা গণনা নিচে ছন্দ অনুযায়ী আলোচনা করা আছে)। অর্থাৎ শেষ পর্বটিতে মাত্রা কম আছে। কবিতায় এরকম কম মাত্রার পর্বকে অপূর্ণ পর্ব বলে।
কবিতাটির প্রতি চারটি চরণে কোন বিশেষ ভাব নির্দেশিত হয়েছে। এগুলোকে একেকটি স্তবক বলে। যেমন, প্রথম স্তবকটিকে কবিতাটির ভূমিকা বলা যেতে পারে, এখানে কবিতাটির মূলভাবই অনেকটা অনূদিত হয়েছে। আবার দ্বিতীয় স্তবকে আঠারো বছর বয়সের, অর্থাৎ তারুণ্যের নির্ভীকতা/ভয়হীনতা বর্ণিত হয়েছে। এভাবে কবিতার একেকটি স্তবকে একেকটি ভাব বর্ণিত হয়।
আবার কবিতাটির চরণের অন্ত্যমিলের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, প্রতি স্তবকের প্রথম ও তৃতীয় চরণের শেষে এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণের শেষে অন্ত্যমিল আছে। এছাড়া চরণগুলোর ভেতরেও খুঁজলে মিল পাওয়া যাবে।
বাংলা ছন্দের প্রকারভেদ
বাংলা কবিতার ছন্দ মূলত ৩টি- স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত । তবে বিংশ শতক থেকে কবিরা গদ্যছন্দেও কবিতা লিখতে শুরু করেছেন। এই ছন্দে সেই সুশৃঙ্খল বিন্যাস না থাকলেও ধ্বনিমাধুর্যটুকু অটুট রয়ে গেছে, যে মাধুর্যের কারণে ধ্বনিবিন্যাস ছন্দে রূপায়িত হয়।
নিচে সংক্ষেপে ছন্দ ৩টির বর্ণনা দেয়া হল।
স্বরবৃত্ত ছন্দ : ছড়ায় বহুল ব্যবহৃত হয় বলে, এই ছন্দকে ছড়ার ছন্দও বলা হয়।
• মূল পর্ব সবসময় ৪ মাত্রার হয়
• প্রতি পর্বের প্রথম অক্ষরে শ্বাসাঘাত পড়ে
• সব অক্ষর ১ মাত্রা গুনতে হয়
• দ্রুত লয় থাকে, মানে কবিতা আবৃত্তি করার সময় দ্রুত পড়তে হয়
উদাহরণ-
বাঁশ বাগানের ∣ মাথার উপর ∣ চাঁদ উঠেছে ∣ ওই ∣∣ (৪+৪+৪+১)
মাগো আমার ∣ শোলোক বলা ∣ কাজলা দিদি ∣ কই ∣∣ (৪+৪+৪+১)
(যতীন্দ্রমোহন বাগচী)
এখানে bold হিসেবে লিখিত অক্ষরগুলো উচ্চারণের সময় শ্বাসাঘাত পড়ে, বা ঝোঁক দিয়ে পড়তে হয়। আর দাগাঙ্কিত অক্ষরগুলোতে মিল বা অনুপ্রাস পরিলক্ষিত হয়।
এরকম-
রায় বেশে নাচ ∣ নাচের ঝোঁকে ∣ মাথায় মারলে ∣ গাঁট্টা ∣∣ (৪+৪+৪+২)
শ্বশুর কাঁদে ∣ মেয়ের শোকে ∣ বর হেসে কয় ∣ ঠাট্টা ∣∣ (৪+৪+৪+২)
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ :
• মূল পর্ব ৪,৫,৬ বা ৭ মাত্রার হয়
• অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে ১ মাত্রা গুনতে হয়; আর অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে (য় থাকলেও) ২ মাত্রা গুনতে হয়; য় থাকলে, যেমন- হয়, কয়; য়-কে বলা যায় semi-vowel, পুরো স্বরধ্বনি নয়, তাই এটি অক্ষরের শেষে থাকলে মাত্রা ২ হয়
• কবিতা আবৃত্তির গতি স্বরবৃত্ত ছন্দের চেয়ে ধীর, কিন্তু অক্ষরবৃত্তের চেয়ে দ্রুত
উদাহরণ-
এইখানে তোর ∣ দাদির কবর ∣ ডালিম-গাছের ∣ তলে ∣∣ (৬+৬+৬+২)
তিরিশ বছর ∣ ভিজায়ে রেখেছি ∣ দুই নয়নের ∣ জলে ∣∣ (৬+৬+৬+২)
(কবর; জসীমউদদীন)
কবিতাটির মূল পর্ব ৬ মাত্রার। প্রতি চরণে তিনটি ৬ মাত্রার পূর্ণ পর্ব এবং একটি ২ মাত্রার অপূর্ণ পর্ব আছে।
এখন মাত্রা গণনা করলে দেখা যাচ্ছে, প্রথম চরণের-
প্রথম পর্ব- এইখানে তোর; এ+ই+খা+নে = ৪ মাত্রা (প্রতিটি অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকায় প্রতিটি ১ মাত্রা); তোর = ২ মাত্রা (অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকায় ২ মাত্রা)
দ্বিতীয় পর্ব- দাদির কবর; দা+দির = ১+২ = ৩ মাত্রা; ক+বর = ১+২ = ৩ মাত্রা
তৃতীয় পর্ব- ডালিম-গাছের; ডা+লিম = ১+২ = ৩ মাত্রা; গা+ছের = ১+২ = ৩ মাত্রা
চতুর্থ পর্ব- তলে; ত+লে = ১+১ = ২ মাত্রা
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ :
• মূল পর্ব ৮ বা ১০ মাত্রার হয়
• অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে ১ মাত্রা গুনতে হয়
• অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি আছে, এমন অক্ষর শব্দের শেষে থাকলে ২ মাত্রা হয়; শব্দের শুরুতে বা মাঝে থাকলে ১ মাত্রা হয়
• কোন শব্দ এক অক্ষরের হলে, এবং সেই অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে, সেই অক্ষরটির মাত্রা ২ হয়
• কোন সমাসবদ্ধ পদের শুরুতে যদি এমন অক্ষর থাকে, যার শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি আছে, তবে সেই অক্ষরের মাত্রা ১ বা ২ হতে পারে
• কবিতা আবৃত্তির গতি ধীর হয়
উদাহরণ-
হে কবি, নীরব কেন ∣ ফাগুন যে এসেছে ধরায় ∣∣ (৮+১০)
বসন্তে বরিয়া তুমি ∣ লবে না কি তব বন্দনায় ∣∣ (৮+১০)
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- ∣∣ (১০)
দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি? ∣∣ (১০)
(তাহারেই পড়ে মনে; সুফিয়া কামাল)
কবিতাটির মূল পর্ব ৮ ও ১০ মাত্রার। স্তবক দুইটি পর্বের হলেও এক পর্বেরও স্তবক আছে।
এখন, মাত্রা গণনা করলে দেখা যায়, প্রথম চরণের,
প্রথম পর্ব- হে কবি, নীরব কেন; হে কবি- হে+ক+বি = ৩ মাত্রা (তিনটি অক্ষরের প্রতিটির শেষে স্বরধ্বনি থাকায় প্রতিটি ১ মাত্রা); নীরব- নী+রব = ১+২ = ৩ মাত্রা (শব্দের শেষের অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকায় সেটি ২ মাত্রা); কেন- কে+ন = ১+১ = ২ মাত্রা; মোট ৮ মাত্রা
আবার দ্বিতীয় চরণের,
দ্বিতীয় পর্ব- লবে না কি তব বন্দনায়; লবে- ল+বে = ২ মাত্রা; না কি তব = না+কি+ত+ব = ৪ মাত্রা; বন্দনায়- বন+দ+নায় = ১+১+২ = ৪ মাত্রা (বন- অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলেও অক্ষরটি শব্দের শেষে না থাকায় এর মাত্রা ১ হবে; আবার নায়- অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি- য় থাকায়, এবং অক্ষরটি শব্দের শেষে থাকায় এর মাত্রা হবে ২); মোট ১০ মাত্রা
এরকম-
আসি তবে ∣ ধন্যবাদ ∣∣ (৪+৪)
না না সে কি, ∣ প্রচুর খেয়েছি ∣∣ (৪+৬)
আপ্যায়ন সমাদর ∣ যতটা পেয়েছি ∣∣ (৮+৬)
ধারণাই ছিলো না আমার- ∣∣ (১০)
ধন্যবাদ। ∣∣ (৪)
(ধন্যবাদ; আহসান হাবীব)
অক্ষরবৃত্ত ছন্দের রূপভেদ বা প্রকারভেদ : অক্ষরবৃত্ত ছন্দের আবার অনেকগুলো রূপভেদ বা প্রকার আছে- পয়ার, মহাপয়ার, ত্রিপদী, চৌপদী, দিগক্ষরা, একাবলী, সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ। নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল-
সনেট :
• বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
• বাংলায় উল্লেখযোগ্য সনেট রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদার, অক্ষয়কুমার বড়াল, ফররুখ আহমদ,কামিনী রায়, প্রমুখ
• ১৪ বা ১৮ মাত্রার চরণ হয়
• দুই স্তবকে ১৪টি চরণ থাকে
• সাধারণত দুই স্তবকে যথাক্রমে ৮টি ও ৬টি চরণ থাকে (চরণ বিন্যাসে ব্যতিক্রম থাকতে পারে)
• প্রথম আটটি চরণের স্তবককে অষ্টক ও শেষ ৬টি চরণের স্তবককে ষটক বলে
• এছাড়া সনেটের অন্ত্যমিল ও ভাবের মিল আছে এমন চারটি চরণকে একত্রে চৌপদী, তিনটি পদকে ত্রিপদীকা বলে
• নির্দিষ্ট নিয়মে অন্ত্যমিল থাকে
• দুইটি স্তবকে যথাক্রমে ভাবের বিকাশ ও পরিণতি থাকতে হয়; ব্যাপারটাকে সহজে ব্যাখ্যা করতে গেলে তা অনেকটা এভাবে বলা যায়- প্রথম স্তবকে কোন সমস্যা বা ভাবের কথা বলা হয়, আর দ্বিতীয় স্তবকে সেই সমস্যার সমাধান বা পরিণতি বর্ণনা করা হয়
• সনেটের ভাষা মার্জিত এবং ভাব গভীর ও গম্ভীর হতে হয়
• সনেট মূলত ৩ প্রকার- পেত্রার্কীয় সনেট, শেক্সপীয়রীয় সনেট ও ফরাসি সনেট; এই ৩ রীতির সনেটের প্রধান পার্থক্য অন্ত্যমিলে। এছাড়া ভাব, বিষয় ও স্তবকের বিভাজনেও কিছু পার্থক্য আছে (তা ব্যাকরণের ছন্দ প্রকরণের আলোচ্য নয়)। নিচে ৩ প্রকার সনেটের অন্ত্যমিলের পার্থক্য দেখান হল-
পেত্রার্কীয় রীতি ক+খ+খ+ক ক+খ+খ+ক চ+ছ+জ চ+ছ+জ
শেক্সপীয়রীয় রীতি ক+খ+ক+খ গ+ঘ+গ+ঘ চ+ছ+চ+ছ জ+জ
ফরাসি রীতি ক+খ+খ+ক ক+খ+খ+ক গ+গ চ+ছ+চ+ছ
উদাহরণ-
হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব ∣ বিবিধ রতন;- ∣∣ (৮+৬) ক
তা সবে, (অবোধ আমি!) ∣ অবহেলা করি, ∣∣ (৮+৬) খ
পর-ধন-লোভে মত্ত, ∣ করিনু ভ্রমণ ∣∣ (৮+৬) ক
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি ∣ কুক্ষণে আচরি। ∣∣ (৮+৬) খ অষ্টক
কাটাইনু বহু দিন ∣ সুখ পরিহরি। ∣∣ (৮+৬) খ
অনিদ্রায়, অনাহারে ∣ সঁপি কায়, মনঃ, ∣∣ (৮+৬) ক
মজিনু বিফল তপে ∣ অবরেণ্যে বরি;- ∣∣ (৮+৬) খ
কেলিনু শৈবালে, ভুলি ∣ কমল-কানন। ∣∣ (৮+৬) ক
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী ∣ কয়ে দিলা পরে,- ∣∣ (৮+৬) গ
ওরে বাছা, মাতৃকোষে ∣ রতনের রাজি ∣∣, (৮+৬) ঘ
এ ভিখারী-দশা তবে ∣ কেন তোর আজি? ∣∣ (৮+৬) ঘ ষটক
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, ∣ যা রে ফিরি ঘরে। ∣∣ (৮+৬) গ
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; ∣ পাইলাম কালে ∣∣ (৮+৬) ঙ
মাতৃভাষা-রূপ খনি, ∣ পূর্ণ মণিজালে । ∣∣। (৮+৬) ঙ
(বঙ্গভাষা; মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
কবিতাটিতে দুই স্তবকে যথাক্রমে ৮ ও ৬ চরণ নিয়ে মোট ১৪টি চরণ আছে। প্রতিটি চরণে ৮ ও ৬ মাত্রার দুই পর্ব মিলে মোট ১৪ মাত্রা আছে।
অমিত্রাক্ষর ছন্দ :
• বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
• অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য ভাবের প্রবহমানতা; অর্থাৎ, এই ছন্দে ভাব চরণ-অনুসারী নয়, কবিকে একটি চরণে একটি নির্দিষ্ট ভাব প্রকাশ করতেই হবে- তা নয়, বরং ভাব এক চরণ থেকে আরেক চরণে প্রবহমান এবং চরণের মাঝেও বাক্য শেষ হতে পারে
• বিরামচিহ্নের স্বাধীনতা বা যেখানে যেই বিরামচিহ্ন প্রয়োজন, তা ব্যবহার করা এই ছন্দের একটি বৈশিষ্ট্য
• অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্ত্যমিল থাকে না, বা চরণের শেষে কোন মিত্রাক্ষর বা মিল থাকে না
• মিল না থাকলেও এই ছন্দে প্রতি চরণে মাত্রা সংখ্যা নির্দিষ্ট (সাধারণত ১৪) এবং পর্বেও মাত্রা সংখ্যা নির্দিষ্ট (সাধারণত ৮++৬)
উদাহরণ-
তথা
জাগে রথ, রথী, গজ, ∣ অশ্ব, পদাতিক ∣∣ (৮+৬)
অগণ্য। দেখিলা রাজা ∣ নগর বাহিরে, ∣∣ (৮+৬)
রিপুবৃন্দ, বালিবৃন্দ ∣ সিন্ধুতীরে যথা, ∣∣ (৮+৬)
নক্ষত্র-মণ্ডল কিংবা ∣ আকাশ-মণ্ডলে। ∣∣ (৮+৬)
(মেঘনাদবধকাব্য; মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
এখানে কোন চরণের শেষেই অন্ত্যমিল নেই। আবার প্রথম বাক্যটি চরণের শেষে সমাপ্ত না হয়ে প্রবাহিত হয়ে একটি চরণের শুরুতেই সমাপ্ত হয়েছে (তথা জাগে রথ, রথী, গজ, অশ্ব, পদাতিক অগণ্য)। এই অন্ত্যমিল না থাকা এবং ভাবের বা বাক্যের প্রবহমানতাই অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান দুইটি বৈশিষ্ট্য।
গদ্যছন্দ :
• এই ছন্দে বাংলায় প্রথম যারা কবিতা লিখেছিলেন তাদের অন্যতম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
• মূলত ফরাসি বিপ্লবের পরবর্তী শিল্পমুক্তির আন্দোলনের ফসল হিসেবে এর জন্ম
• গদ্য ছন্দ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন- গদ্যের মধ্যে যখন পদ্যের রঙ ধরানো হয় তখন গদ্যকবিতার জন্ম হয়
• পর্বগুলো নানা মাত্রার হয়, সাধারণত পর্ব-দৈর্ঘ্যে কোন ধরনের সমতা বা মিল থাকে না
• পদ ও চরণ যতি দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং বিরাম চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন দ্বারা নির্ধারিত হয়; এই বিরাম চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন উচ্চারণের সুবিধার্থে নয়, বরং অর্থ প্রকাশের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হয়
• গদ্যকবিতা গদ্যে লেখা হলেও তা পড়ার সময় এক ধরনের ছন্দ বা সুরের আভাস পাওয়া যায়
• গদ্যকবিতা গদ্যে লেখা হলেও এর পদবিন্যাস কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ও পুনর্বিন্যাসিত হতে হয়
উদাহরণ-
আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ
অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়
একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
সন্ধ্যার উন্মেষের মতো
সরোবরের অতলের মতো
কালো-কেশ মেঘের সঞ্চয়ের মতো
বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি
(আমার পূর্ব বাংলা; সৈয়দ আলী আহসান)
অর্থাৎ, কবি তার কবিতার ধ্বনিগুলোকে যে সুশৃঙ্খল বিন্যাসে বিন্যস্ত করে তাতে এক বিশেষ ধ্বনিসুষমা দান করেন, যার ফলে কবিতাটি পড়ার সময় পাঠক এক ধরনের ধ্বনিমাধুর্য উপভোগ করেন, ধ্বনির সেই সুশৃঙ্খল বিন্যাসকেই ছন্দ বলা হয়।
বিভিন্ন প্রকার ছন্দ সম্পর্কে জানার পূর্বে ছন্দের কিছু উপকরণ সম্পর্কে জেনে নেয়া জরুরি। আর ছন্দ সম্পর্কে পড়ার আগে আরেকটা জিনিস মাথায় রাখা দরকার- ছন্দ সর্বদা উচ্চারণের সাথে সম্পর্কিত, বানানের সঙ্গে নয়।
অক্ষর : (বাগযন্ত্রের) স্বল্পতম প্রয়াসে বা এক ঝোঁকে শব্দের যে অংশটুকু উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বা দল বলে। এই অক্ষর অনেকটাই ইংরেজি Syllable-র মত। যেমন-
শর্বরী- শর, বো, রী- ৩ অক্ষর
চিরজীবী- চি, রো, জী, বী- ৪ অক্ষর
কুঞ্জ- কুন, জো- ২ অক্ষর
যতি বা ছন্দ-যতি : কোন বাক্য পড়ার সময় শ্বাসগ্রহণের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে অন্তর অন্তর যে উচ্চারণ বিরতি নেয়া হয়, তাকে ছন্দ-যতি বা শ্বাস-যতি বলে।
যতি মূলত ২ প্রকার- হ্রস্ব যতি ও দীর্ঘ যতি। অল্পক্ষণ বিরতির জন্য সাধারণত বাক্য বা পদের মাঝখানে হ্রস্ব যতি দেওয়া হয়। আর বেশিক্ষণ বিরতির জন্য, সাধারণত বাক্য বা পদের শেষে দীর্ঘ যতি ব্যবহৃত হয়।
পর্ব : বাক্য বা পদের এক হ্রস্ব যতি হতে আরেক হ্রস্ব যতি পর্যন্ত অংশকে পর্ব বলা হয়। যেমন-
একলা ছিলেম ∣ কুয়োর ধারে ∣ নিমের ছায়া ∣ তলে ∣∣
কলস নিয়ে ∣ সবাই তখন ∣ পাড়ায় গেছে ∣ চলে ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
( ∣ - হ্রস্ব যতি ও ∣∣ - দীর্ঘ যতি)
এখানে একলা ছিলেম, কুয়োর ধারে, নিমের ছায়া, তলে- প্রতিটিই একেকটি পর্ব; মানে প্রতিটি চরণে ৪টি করে পর্ব।
মাত্রা : একটি অক্ষর উচ্চারণে যে সময় প্রয়োজন হয়, তাকে মাত্রা বলে। বাংলায় এই মাত্রাসংখ্যার নির্দিষ্ট নয়, একেক ছন্দে একেক অক্ষরের মাত্রাসংখ্যা একেক রকম হয়। মূলত, এই মাত্রার ভিন্নতাই বাংলা ছন্দগুলোর ভিত্তি। বিভিন্ন ছন্দে মাত্রাগণনার রীতি বিভিন্ন ছন্দের আলোচনায় দেয়া আছে।
শ্বাসাঘাত : প্রায়ই বাংলা কবিতা পাঠ করার সময় পর্বের প্রথম অক্ষরের উপর একটা আলাদা জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত জোর দিয়ে পাঠ করা বা আবৃত্তি করাকেই বলা হয় শ্বাসাঘাত বা প্রস্বর। যেমন-
আমরা আছি ∣ হাজার বছর ∣ ঘুমের ঘোরের ∣ গাঁয়ে ∣∣
আমরা ভেসে ∣ বেড়াই স্রোতের ∣ শেওলা ঘেরা ∣ নায়ে ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
এখানে প্রতিটি পর্বের প্রথম অক্ষরই একটু ঝোঁক দিয়ে, জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত ঝোঁক বা জোরকেই শ্বাসাঘাত বলে।
পদ ও চরণ : দীর্ঘ যতি বা পূর্ণ যতি ছাড়াও এই দুই যতির মধ্যবর্তী বিরতির জন্য মধ্যযতি ব্যবহৃত হয় । দুই দীর্ঘ যতির মধ্যবর্তী অংশকে চরণ বলে, আর মধ্য যতি দ্বারা চরণকে বিভক্ত করা হলে সেই অংশগুলোকে বলা হয় পদ। যেমন-
তরুতলে আছি ∣ একেলা পড়িয়া ⊥ দলিত পত্র ∣ শয়নে ∣∣
তোমাতে আমাতে ∣ রত ছিনু যবে ⊥ কাননে কুসুম ∣ চয়নে∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
(এখানে ⊥ দ্বারা মধ্যযতি চিহ্নিত করা হয়েছে।)
পূর্ণযতি দ্বারা আলাদা করা দুইটি অংশই চরণ; আর চরণের মধ্যযতি দিয়ে পৃথক করা অংশগুলো পদ। এরকম-
যা আছে সব ∣ একেবারে ⊥
করবে অধি ∣ কার ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
স্তবক : অনেকগুলো চরণ নিয়ে একটি স্তবক গঠিত হয়। সাধারণত, একটি স্তবকে একটি ভাব প্রকাশিত হয়।
মিল : একাধিক পদ, পর্ব বা চরণের শেষে একই রকম ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছের ব্যবহারকে মিল বলে। অলংকারের ভাষায় একে বলে অনুপ্রাস। সাধারণত, মিল পদের শেষে থাকলেও শুরুতে বা মাঝেও মিল থাকতে পারে। পদের শেষের মিলকে অন্ত্যমিল বলে। যেমন-
মুখে দেয় জল ∣ শুধায় কুশল ∣ শিরে নাই মোর ∣ হাত ∣∣
দাঁড়ায়ে নিঝুম ∣ চোখে নাই ঘুম ∣ মুখে নাই তার ∣ ভাত ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
এখানে, প্রথম চরণের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের শেষের পদদুটিতে অন্ত্যমিল (অল) আছে; দ্বিতীয় চরণের প্রথম দুই পদের শেষেও অন্ত্যমিল আছে (উম)। আবার দ্বিতীয় চরণের প্রথম দুই পদের শেষের ধ্বনি (ম) তৃতীয় পদের শুরুতে ব্যবহৃত হয়ে আরেকটি মিল সৃষ্টি করেছে। আর দুই চরণের শেষের পদেও অন্ত্যমিল আছে (আত)।
এবার, সুকান্ত ভট্টাচর্যের আঠারো বছর বয়স- কবিতার প্রথম দুটি স্তবকের ছন্দের এসব উপকরণ নিয়ে আলোচনা করলে বুঝতে সুবিধা হতে পারে।
আঠারো বছর বয়স
সুকান্ত ভট্টাচার্য
আঠারো বছর ∣ বয়স কী দুঃ ∣ সহ ∣∣
স্পর্ধায় নেয় ∣ মাথা তোলবার ∣ ঝুঁকি, ∣∣
আঠারো বছর ∣ বয়সেই অহ ∣ রহ ∣∣
বিরাট দুঃসা ∣ হসেরা দেয় যে ∣ উঁকি। ∣∣∣
আঠারো বছর ∣ বয়সের নেই ∣ ভয় ∣∣
পদাঘাতে চায় ∣ ভাঙতে পাথর ∣ বাধা, ∣∣
এ বয়সে কেউ ∣ মাথা নোয়াবার ∣ নয়- ∣∣
আঠারো বছর ∣ বয়স জানে না ∣ কাঁদা। ∣∣
উপরে কবিতাটির ছন্দ যতির স্থান নির্দেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এর পর্ব, পদ ও চরণ একরকম নির্দেশিত হয়েছে। প্রতিটি চরণে তিনটি পর্ব রয়েছে; প্রথম দুটি পর্ব ৬ মাত্রার, শেষ পর্বে ২ মাত্রার (মাত্রা গণনা নিচে ছন্দ অনুযায়ী আলোচনা করা আছে)। অর্থাৎ শেষ পর্বটিতে মাত্রা কম আছে। কবিতায় এরকম কম মাত্রার পর্বকে অপূর্ণ পর্ব বলে।
কবিতাটির প্রতি চারটি চরণে কোন বিশেষ ভাব নির্দেশিত হয়েছে। এগুলোকে একেকটি স্তবক বলে। যেমন, প্রথম স্তবকটিকে কবিতাটির ভূমিকা বলা যেতে পারে, এখানে কবিতাটির মূলভাবই অনেকটা অনূদিত হয়েছে। আবার দ্বিতীয় স্তবকে আঠারো বছর বয়সের, অর্থাৎ তারুণ্যের নির্ভীকতা/ভয়হীনতা বর্ণিত হয়েছে। এভাবে কবিতার একেকটি স্তবকে একেকটি ভাব বর্ণিত হয়।
আবার কবিতাটির চরণের অন্ত্যমিলের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, প্রতি স্তবকের প্রথম ও তৃতীয় চরণের শেষে এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণের শেষে অন্ত্যমিল আছে। এছাড়া চরণগুলোর ভেতরেও খুঁজলে মিল পাওয়া যাবে।
বাংলা ছন্দের প্রকারভেদ
বাংলা কবিতার ছন্দ মূলত ৩টি- স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত । তবে বিংশ শতক থেকে কবিরা গদ্যছন্দেও কবিতা লিখতে শুরু করেছেন। এই ছন্দে সেই সুশৃঙ্খল বিন্যাস না থাকলেও ধ্বনিমাধুর্যটুকু অটুট রয়ে গেছে, যে মাধুর্যের কারণে ধ্বনিবিন্যাস ছন্দে রূপায়িত হয়।
নিচে সংক্ষেপে ছন্দ ৩টির বর্ণনা দেয়া হল।
স্বরবৃত্ত ছন্দ : ছড়ায় বহুল ব্যবহৃত হয় বলে, এই ছন্দকে ছড়ার ছন্দও বলা হয়।
• মূল পর্ব সবসময় ৪ মাত্রার হয়
• প্রতি পর্বের প্রথম অক্ষরে শ্বাসাঘাত পড়ে
• সব অক্ষর ১ মাত্রা গুনতে হয়
• দ্রুত লয় থাকে, মানে কবিতা আবৃত্তি করার সময় দ্রুত পড়তে হয়
উদাহরণ-
বাঁশ বাগানের ∣ মাথার উপর ∣ চাঁদ উঠেছে ∣ ওই ∣∣ (৪+৪+৪+১)
মাগো আমার ∣ শোলোক বলা ∣ কাজলা দিদি ∣ কই ∣∣ (৪+৪+৪+১)
(যতীন্দ্রমোহন বাগচী)
এখানে bold হিসেবে লিখিত অক্ষরগুলো উচ্চারণের সময় শ্বাসাঘাত পড়ে, বা ঝোঁক দিয়ে পড়তে হয়। আর দাগাঙ্কিত অক্ষরগুলোতে মিল বা অনুপ্রাস পরিলক্ষিত হয়।
এরকম-
রায় বেশে নাচ ∣ নাচের ঝোঁকে ∣ মাথায় মারলে ∣ গাঁট্টা ∣∣ (৪+৪+৪+২)
শ্বশুর কাঁদে ∣ মেয়ের শোকে ∣ বর হেসে কয় ∣ ঠাট্টা ∣∣ (৪+৪+৪+২)
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ :
• মূল পর্ব ৪,৫,৬ বা ৭ মাত্রার হয়
• অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে ১ মাত্রা গুনতে হয়; আর অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে (য় থাকলেও) ২ মাত্রা গুনতে হয়; য় থাকলে, যেমন- হয়, কয়; য়-কে বলা যায় semi-vowel, পুরো স্বরধ্বনি নয়, তাই এটি অক্ষরের শেষে থাকলে মাত্রা ২ হয়
• কবিতা আবৃত্তির গতি স্বরবৃত্ত ছন্দের চেয়ে ধীর, কিন্তু অক্ষরবৃত্তের চেয়ে দ্রুত
উদাহরণ-
এইখানে তোর ∣ দাদির কবর ∣ ডালিম-গাছের ∣ তলে ∣∣ (৬+৬+৬+২)
তিরিশ বছর ∣ ভিজায়ে রেখেছি ∣ দুই নয়নের ∣ জলে ∣∣ (৬+৬+৬+২)
(কবর; জসীমউদদীন)
কবিতাটির মূল পর্ব ৬ মাত্রার। প্রতি চরণে তিনটি ৬ মাত্রার পূর্ণ পর্ব এবং একটি ২ মাত্রার অপূর্ণ পর্ব আছে।
এখন মাত্রা গণনা করলে দেখা যাচ্ছে, প্রথম চরণের-
প্রথম পর্ব- এইখানে তোর; এ+ই+খা+নে = ৪ মাত্রা (প্রতিটি অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকায় প্রতিটি ১ মাত্রা); তোর = ২ মাত্রা (অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকায় ২ মাত্রা)
দ্বিতীয় পর্ব- দাদির কবর; দা+দির = ১+২ = ৩ মাত্রা; ক+বর = ১+২ = ৩ মাত্রা
তৃতীয় পর্ব- ডালিম-গাছের; ডা+লিম = ১+২ = ৩ মাত্রা; গা+ছের = ১+২ = ৩ মাত্রা
চতুর্থ পর্ব- তলে; ত+লে = ১+১ = ২ মাত্রা
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ :
• মূল পর্ব ৮ বা ১০ মাত্রার হয়
• অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে ১ মাত্রা গুনতে হয়
• অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি আছে, এমন অক্ষর শব্দের শেষে থাকলে ২ মাত্রা হয়; শব্দের শুরুতে বা মাঝে থাকলে ১ মাত্রা হয়
• কোন শব্দ এক অক্ষরের হলে, এবং সেই অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে, সেই অক্ষরটির মাত্রা ২ হয়
• কোন সমাসবদ্ধ পদের শুরুতে যদি এমন অক্ষর থাকে, যার শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি আছে, তবে সেই অক্ষরের মাত্রা ১ বা ২ হতে পারে
• কবিতা আবৃত্তির গতি ধীর হয়
উদাহরণ-
হে কবি, নীরব কেন ∣ ফাগুন যে এসেছে ধরায় ∣∣ (৮+১০)
বসন্তে বরিয়া তুমি ∣ লবে না কি তব বন্দনায় ∣∣ (৮+১০)
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- ∣∣ (১০)
দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি? ∣∣ (১০)
(তাহারেই পড়ে মনে; সুফিয়া কামাল)
কবিতাটির মূল পর্ব ৮ ও ১০ মাত্রার। স্তবক দুইটি পর্বের হলেও এক পর্বেরও স্তবক আছে।
এখন, মাত্রা গণনা করলে দেখা যায়, প্রথম চরণের,
প্রথম পর্ব- হে কবি, নীরব কেন; হে কবি- হে+ক+বি = ৩ মাত্রা (তিনটি অক্ষরের প্রতিটির শেষে স্বরধ্বনি থাকায় প্রতিটি ১ মাত্রা); নীরব- নী+রব = ১+২ = ৩ মাত্রা (শব্দের শেষের অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকায় সেটি ২ মাত্রা); কেন- কে+ন = ১+১ = ২ মাত্রা; মোট ৮ মাত্রা
আবার দ্বিতীয় চরণের,
দ্বিতীয় পর্ব- লবে না কি তব বন্দনায়; লবে- ল+বে = ২ মাত্রা; না কি তব = না+কি+ত+ব = ৪ মাত্রা; বন্দনায়- বন+দ+নায় = ১+১+২ = ৪ মাত্রা (বন- অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলেও অক্ষরটি শব্দের শেষে না থাকায় এর মাত্রা ১ হবে; আবার নায়- অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি- য় থাকায়, এবং অক্ষরটি শব্দের শেষে থাকায় এর মাত্রা হবে ২); মোট ১০ মাত্রা
এরকম-
আসি তবে ∣ ধন্যবাদ ∣∣ (৪+৪)
না না সে কি, ∣ প্রচুর খেয়েছি ∣∣ (৪+৬)
আপ্যায়ন সমাদর ∣ যতটা পেয়েছি ∣∣ (৮+৬)
ধারণাই ছিলো না আমার- ∣∣ (১০)
ধন্যবাদ। ∣∣ (৪)
(ধন্যবাদ; আহসান হাবীব)
অক্ষরবৃত্ত ছন্দের রূপভেদ বা প্রকারভেদ : অক্ষরবৃত্ত ছন্দের আবার অনেকগুলো রূপভেদ বা প্রকার আছে- পয়ার, মহাপয়ার, ত্রিপদী, চৌপদী, দিগক্ষরা, একাবলী, সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ। নিচে এগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল-
সনেট :
• বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
• বাংলায় উল্লেখযোগ্য সনেট রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদার, অক্ষয়কুমার বড়াল, ফররুখ আহমদ,কামিনী রায়, প্রমুখ
• ১৪ বা ১৮ মাত্রার চরণ হয়
• দুই স্তবকে ১৪টি চরণ থাকে
• সাধারণত দুই স্তবকে যথাক্রমে ৮টি ও ৬টি চরণ থাকে (চরণ বিন্যাসে ব্যতিক্রম থাকতে পারে)
• প্রথম আটটি চরণের স্তবককে অষ্টক ও শেষ ৬টি চরণের স্তবককে ষটক বলে
• এছাড়া সনেটের অন্ত্যমিল ও ভাবের মিল আছে এমন চারটি চরণকে একত্রে চৌপদী, তিনটি পদকে ত্রিপদীকা বলে
• নির্দিষ্ট নিয়মে অন্ত্যমিল থাকে
• দুইটি স্তবকে যথাক্রমে ভাবের বিকাশ ও পরিণতি থাকতে হয়; ব্যাপারটাকে সহজে ব্যাখ্যা করতে গেলে তা অনেকটা এভাবে বলা যায়- প্রথম স্তবকে কোন সমস্যা বা ভাবের কথা বলা হয়, আর দ্বিতীয় স্তবকে সেই সমস্যার সমাধান বা পরিণতি বর্ণনা করা হয়
• সনেটের ভাষা মার্জিত এবং ভাব গভীর ও গম্ভীর হতে হয়
• সনেট মূলত ৩ প্রকার- পেত্রার্কীয় সনেট, শেক্সপীয়রীয় সনেট ও ফরাসি সনেট; এই ৩ রীতির সনেটের প্রধান পার্থক্য অন্ত্যমিলে। এছাড়া ভাব, বিষয় ও স্তবকের বিভাজনেও কিছু পার্থক্য আছে (তা ব্যাকরণের ছন্দ প্রকরণের আলোচ্য নয়)। নিচে ৩ প্রকার সনেটের অন্ত্যমিলের পার্থক্য দেখান হল-
পেত্রার্কীয় রীতি ক+খ+খ+ক ক+খ+খ+ক চ+ছ+জ চ+ছ+জ
শেক্সপীয়রীয় রীতি ক+খ+ক+খ গ+ঘ+গ+ঘ চ+ছ+চ+ছ জ+জ
ফরাসি রীতি ক+খ+খ+ক ক+খ+খ+ক গ+গ চ+ছ+চ+ছ
উদাহরণ-
হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব ∣ বিবিধ রতন;- ∣∣ (৮+৬) ক
তা সবে, (অবোধ আমি!) ∣ অবহেলা করি, ∣∣ (৮+৬) খ
পর-ধন-লোভে মত্ত, ∣ করিনু ভ্রমণ ∣∣ (৮+৬) ক
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি ∣ কুক্ষণে আচরি। ∣∣ (৮+৬) খ অষ্টক
কাটাইনু বহু দিন ∣ সুখ পরিহরি। ∣∣ (৮+৬) খ
অনিদ্রায়, অনাহারে ∣ সঁপি কায়, মনঃ, ∣∣ (৮+৬) ক
মজিনু বিফল তপে ∣ অবরেণ্যে বরি;- ∣∣ (৮+৬) খ
কেলিনু শৈবালে, ভুলি ∣ কমল-কানন। ∣∣ (৮+৬) ক
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী ∣ কয়ে দিলা পরে,- ∣∣ (৮+৬) গ
ওরে বাছা, মাতৃকোষে ∣ রতনের রাজি ∣∣, (৮+৬) ঘ
এ ভিখারী-দশা তবে ∣ কেন তোর আজি? ∣∣ (৮+৬) ঘ ষটক
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, ∣ যা রে ফিরি ঘরে। ∣∣ (৮+৬) গ
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; ∣ পাইলাম কালে ∣∣ (৮+৬) ঙ
মাতৃভাষা-রূপ খনি, ∣ পূর্ণ মণিজালে । ∣∣। (৮+৬) ঙ
(বঙ্গভাষা; মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
কবিতাটিতে দুই স্তবকে যথাক্রমে ৮ ও ৬ চরণ নিয়ে মোট ১৪টি চরণ আছে। প্রতিটি চরণে ৮ ও ৬ মাত্রার দুই পর্ব মিলে মোট ১৪ মাত্রা আছে।
অমিত্রাক্ষর ছন্দ :
• বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
• অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য ভাবের প্রবহমানতা; অর্থাৎ, এই ছন্দে ভাব চরণ-অনুসারী নয়, কবিকে একটি চরণে একটি নির্দিষ্ট ভাব প্রকাশ করতেই হবে- তা নয়, বরং ভাব এক চরণ থেকে আরেক চরণে প্রবহমান এবং চরণের মাঝেও বাক্য শেষ হতে পারে
• বিরামচিহ্নের স্বাধীনতা বা যেখানে যেই বিরামচিহ্ন প্রয়োজন, তা ব্যবহার করা এই ছন্দের একটি বৈশিষ্ট্য
• অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্ত্যমিল থাকে না, বা চরণের শেষে কোন মিত্রাক্ষর বা মিল থাকে না
• মিল না থাকলেও এই ছন্দে প্রতি চরণে মাত্রা সংখ্যা নির্দিষ্ট (সাধারণত ১৪) এবং পর্বেও মাত্রা সংখ্যা নির্দিষ্ট (সাধারণত ৮++৬)
উদাহরণ-
তথা
জাগে রথ, রথী, গজ, ∣ অশ্ব, পদাতিক ∣∣ (৮+৬)
অগণ্য। দেখিলা রাজা ∣ নগর বাহিরে, ∣∣ (৮+৬)
রিপুবৃন্দ, বালিবৃন্দ ∣ সিন্ধুতীরে যথা, ∣∣ (৮+৬)
নক্ষত্র-মণ্ডল কিংবা ∣ আকাশ-মণ্ডলে। ∣∣ (৮+৬)
(মেঘনাদবধকাব্য; মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
এখানে কোন চরণের শেষেই অন্ত্যমিল নেই। আবার প্রথম বাক্যটি চরণের শেষে সমাপ্ত না হয়ে প্রবাহিত হয়ে একটি চরণের শুরুতেই সমাপ্ত হয়েছে (তথা জাগে রথ, রথী, গজ, অশ্ব, পদাতিক অগণ্য)। এই অন্ত্যমিল না থাকা এবং ভাবের বা বাক্যের প্রবহমানতাই অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান দুইটি বৈশিষ্ট্য।
গদ্যছন্দ :
• এই ছন্দে বাংলায় প্রথম যারা কবিতা লিখেছিলেন তাদের অন্যতম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
• মূলত ফরাসি বিপ্লবের পরবর্তী শিল্পমুক্তির আন্দোলনের ফসল হিসেবে এর জন্ম
• গদ্য ছন্দ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন- গদ্যের মধ্যে যখন পদ্যের রঙ ধরানো হয় তখন গদ্যকবিতার জন্ম হয়
• পর্বগুলো নানা মাত্রার হয়, সাধারণত পর্ব-দৈর্ঘ্যে কোন ধরনের সমতা বা মিল থাকে না
• পদ ও চরণ যতি দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং বিরাম চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন দ্বারা নির্ধারিত হয়; এই বিরাম চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন উচ্চারণের সুবিধার্থে নয়, বরং অর্থ প্রকাশের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হয়
• গদ্যকবিতা গদ্যে লেখা হলেও তা পড়ার সময় এক ধরনের ছন্দ বা সুরের আভাস পাওয়া যায়
• গদ্যকবিতা গদ্যে লেখা হলেও এর পদবিন্যাস কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ও পুনর্বিন্যাসিত হতে হয়
উদাহরণ-
আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ
অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়
একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
সন্ধ্যার উন্মেষের মতো
সরোবরের অতলের মতো
কালো-কেশ মেঘের সঞ্চয়ের মতো
বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি
(আমার পূর্ব বাংলা; সৈয়দ আলী আহসান)
সংগৃহীত: আমিন পরবাসী
শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৪
লজ্জাস্থান ঢাকিলেই হয়না লজ্জা নিবারণ।
"আপনাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি , ইদানিং দূতাবাসের ভিতরে পকেটমারের উপদ্রব বেড়ে গেছে। আপনারা আপনাদের পকেট সাবধানে রাখবেন "
দুবাই -এ অবস্থিত বাংলাদশ দুতাবাস কতৃপক্ষ একটু একটু পর পর যখন এই সতর্কমুলুক বার্তাটি ঘোষণা করছিল তখন একটু বিরক্ত না হয়ে আর পারলাম না। লজ্জিতও হলাম বটে এই ঘোষণাটি শুনে। কেন লজ্জিত হলাম সেটাই বলতে যাচ্ছি। দুবাই-এর সাথে আমি আমার সোনার দেশের তুলুনা করতে চাই না। তবে তার পরও কিছু কথা আজ না বলে পারলাম না। আজকাল আমি একটু বেশি কথা-ই বলে ফেলছি। দু'কলম লিখাপড়া করেই সুযোগ পেলে দু'একটি বিবেক তাড়িত বাক্য হঠাৎ করে অনিচ্ছাকৃতভাবেই বের হয়ে যায়।
বিশ্বের মানচিত্রে বর্তমানে দুবাই একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের ১৮৮টি দেশের নাগরিকের অবস্থান এই ক্ষুদ্র দেশটিতে। অনেকে এসেছেন কোনো চাকুরী নিয়ে আবার অনেকে এসে গড়েছেন বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। আমি আজ গত ৪ বছর ধরেই একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছি। আমার এই ৪ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি কথা আমি বলতে পারি যে, আমাদের বাংলাদেশের নাগরিকদের এখানে খুব হেয় করে দেখা হয়। বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে কিভাবে দেখা হয় সেই সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই তবে দুবাই -তে বাংলাদেশী নাগরিকদের যে হেয় করে দেখা হয় তার কোনো সন্দেহ নেই।
একটি প্রবাদ বাক্যে পরেছিলাম যে, কেউ তোমার পিঠে চড়তে পারবে না যতক্ষণ তুমি তোমার পিঠ নিচু না করো। কথাটি এজন্য বললাম কারণ আমরা নিজেরাই আসলে আমাদেরকে হেয় করে দেখার পথটি সুদৃঢ় করে দিয়েছি তাদের। আমরা আমাদের কর্মকান্ড দ্বারা নিজের জাতিকে করেছি কলঙ্কিত। যার কারণে বাঙালি নামটি শুনলেই এদেশের মানুষের মুখে একটি কালো মেঘের আবরণ পরে যায়। মনে করেন আমি কারো সাথে বিগত এক ঘন্টা ধরে কথা বলছি, অনেক মিষ্টি মধুর কথা, তবে সে যখন একটি ঘন্টা পর জানে যে আমি একজন বাংলাদেশের নাগরিক তখন তার মুখে আর আগের রস-কস থাকে না। তবে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। সে আমার সাথে ভালো/খারাপ যেভাবেই কথা বলুক না কেন তাতে আমার কিছু আসে যায় না তবে অবশ্যই আমার জাতির কিছু আসে যায়, আর আমার জাতির উপর যেটা আসে সেটাতো আর মেনে নিতে পারি না। তারা আমাদেরকে আসলেই আমাদের জাতিকে খুব নগন্য মনে করে তবে তার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী।
এবার সর্ব প্রথমে আপনাদের যে সতর্কবাক্যটি শুনিয়েছি সেটা দুবাই-এ অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাস কতৃপক্ষের সতর্কবার্তা। আপনারা হয়ত বলতে পারেন এখানে লজ্জা পাওয়ার কি আছে এটি তো একটু সতর্কমুলুক বার্তা। লজ্জাটা এজন্য পেলাম কারণ এই দেশে হত্যা, গুম, চুরি, ডাকাতির সংবাদ তেমন একটা চোখে পরে না। আমি কিন্তু বলছিনা না যে এসব ঘটনা ঘটে না, সব দেশেই এসব ঘটে থাকে তবে সচরাচর লক্ষনীয় নয়। এদেশে বসবাসরত সবাই এই দেশের আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকে আর এটা করাটাই স্বাভাবিক কারণ আমি যখন আমার দেশ থকে বাহিরে আসব তখন আমাকে ওই দেশের আইন-কানুন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এখানে একটি অর্ধ-বসনা নারী মধ্যরাতে একা রাস্তাতে চলতে কোনো দ্বিধাবোধ করে না। মানুষ এখানে দ্বিধাবোধ করে না সাথে টাকা নিয়ে চলতে। স্বীকার করতে হবে আমাকে যে এই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আজও তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না হওয়ার লক্ষে কাজ করার চেষ্টা কে যাচ্ছে। এই দেশে বসবাসরত ভিনদেশি নাগরিকদের মধ্যে এই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পরিলক্ষিত। এই দেশে সামান্য একটি পানির বোতল যেখানে সেখানে ছুঁড়ে না ফেলে সবাই ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট ঝুঁড়িতে ফেলে পাছে না কেউ দেখে আবার জরিমানা দিতে হয়। এমন ভাবে আইন পরিচালনার পরও আমাদের বাংলাদেশী দুতাবাসথেকে যখন প্রতিনিয়ত সতর্কবাণী দিয়ে যাচ্ছে পকেট মার থেকে সাবধান থাকার জন্য সেটা আমার কাছে লজ্জাকরই মনে হয়েছে।
আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং আমরাও আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জানি অথবা চেষ্টা করছি তাল মিলিয়ে চলার জন্য। আমি মনে করি আজ যদিও আমরা পিছিয়ে রয়েছি শুধু আমাদের সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা, ভালবাসা, মূল্যবোধের অভাবে যা আমরা আমাদের চেতনায় আজও ধারণ করতে পারিনি। নিজের এবং নিজের পরিবারের মুখে একটু হাসি, একটু সচ্ছল ভাবে জীবন ধারনের লক্ষে আপন দেশের মাটি ছেড়ে আমরা পাড়ি জমায় বিদেশের মাটিতে। অর্থ উপার্জন করার উদ্দেশে এখানে আমাদের আসা তবে তার মানে এই নয় যে সেই অর্থটি উপার্জন করতে হবে কোনো অবৈধ পথে। আমাদের দেশের শত শত নাগরিক আজ এই দেশে এসে জড়িত হয়ে পরেছে অনেক অবৈধ কর্মকান্ডে। ভিন দেশে এসেও এখানে পরিকল্পনার করা হয় ব্যাংক লুটের মত বড় অবৈধ কাজ। আর যেই কাজগুলো আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। অপমান করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত আমাদের।
বেশি বকবক করে আমি আর কি করব বলেন? ঘোড়াকে জোর করে পানিতে নামানো যাবে কিন্তু জোর করে পানি পান করানো যাবে না। নিজেরাই যদি নিজেদের ও নিজের দেশের স্বার্থের জন্য নিজের নৈতিক মূল্যবোধকে না জাগাই তাহলে অন্য কেউ আর তা জাগিয়ে দিতে পারবে না।
এবার সর্ব প্রথমে আপনাদের যে সতর্কবাক্যটি শুনিয়েছি সেটা দুবাই-এ অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাস কতৃপক্ষের সতর্কবার্তা। আপনারা হয়ত বলতে পারেন এখানে লজ্জা পাওয়ার কি আছে এটি তো একটু সতর্কমুলুক বার্তা। লজ্জাটা এজন্য পেলাম কারণ এই দেশে হত্যা, গুম, চুরি, ডাকাতির সংবাদ তেমন একটা চোখে পরে না। আমি কিন্তু বলছিনা না যে এসব ঘটনা ঘটে না, সব দেশেই এসব ঘটে থাকে তবে সচরাচর লক্ষনীয় নয়। এদেশে বসবাসরত সবাই এই দেশের আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকে আর এটা করাটাই স্বাভাবিক কারণ আমি যখন আমার দেশ থকে বাহিরে আসব তখন আমাকে ওই দেশের আইন-কানুন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এখানে একটি অর্ধ-বসনা নারী মধ্যরাতে একা রাস্তাতে চলতে কোনো দ্বিধাবোধ করে না। মানুষ এখানে দ্বিধাবোধ করে না সাথে টাকা নিয়ে চলতে। স্বীকার করতে হবে আমাকে যে এই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আজও তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না হওয়ার লক্ষে কাজ করার চেষ্টা কে যাচ্ছে। এই দেশে বসবাসরত ভিনদেশি নাগরিকদের মধ্যে এই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পরিলক্ষিত। এই দেশে সামান্য একটি পানির বোতল যেখানে সেখানে ছুঁড়ে না ফেলে সবাই ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট ঝুঁড়িতে ফেলে পাছে না কেউ দেখে আবার জরিমানা দিতে হয়। এমন ভাবে আইন পরিচালনার পরও আমাদের বাংলাদেশী দুতাবাসথেকে যখন প্রতিনিয়ত সতর্কবাণী দিয়ে যাচ্ছে পকেট মার থেকে সাবধান থাকার জন্য সেটা আমার কাছে লজ্জাকরই মনে হয়েছে।
আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং আমরাও আজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জানি অথবা চেষ্টা করছি তাল মিলিয়ে চলার জন্য। আমি মনে করি আজ যদিও আমরা পিছিয়ে রয়েছি শুধু আমাদের সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা, ভালবাসা, মূল্যবোধের অভাবে যা আমরা আমাদের চেতনায় আজও ধারণ করতে পারিনি। নিজের এবং নিজের পরিবারের মুখে একটু হাসি, একটু সচ্ছল ভাবে জীবন ধারনের লক্ষে আপন দেশের মাটি ছেড়ে আমরা পাড়ি জমায় বিদেশের মাটিতে। অর্থ উপার্জন করার উদ্দেশে এখানে আমাদের আসা তবে তার মানে এই নয় যে সেই অর্থটি উপার্জন করতে হবে কোনো অবৈধ পথে। আমাদের দেশের শত শত নাগরিক আজ এই দেশে এসে জড়িত হয়ে পরেছে অনেক অবৈধ কর্মকান্ডে। ভিন দেশে এসেও এখানে পরিকল্পনার করা হয় ব্যাংক লুটের মত বড় অবৈধ কাজ। আর যেই কাজগুলো আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। অপমান করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত আমাদের।
বেশি বকবক করে আমি আর কি করব বলেন? ঘোড়াকে জোর করে পানিতে নামানো যাবে কিন্তু জোর করে পানি পান করানো যাবে না। নিজেরাই যদি নিজেদের ও নিজের দেশের স্বার্থের জন্য নিজের নৈতিক মূল্যবোধকে না জাগাই তাহলে অন্য কেউ আর তা জাগিয়ে দিতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০১৪
Stop Finding Mistake In Others
A boy was born to a couple after eleven years of marriage. They
were a loving couple and the boy was the apple of their eyes. When the boy was
around two years old, one morning the husband saw a medicine bottle open. He
was late for work so he asked the wife to cap the bottle and keep it in the
cupboard. The mother, preoccupied in the kitchen, totally forgot the matter.
The boy saw the bottle and playfully went to the bottle and, fascinated with
its color, drank it all. It happened to be a poisonous medicine meant for
adults in small dosages. When the child collapsed, the mother hurried him to
the hospital, where he died. The mother was stunned. She was terrified how to
face her husband.
When the distraught father came to the hospital and saw the dead child, he
looked at his wife and uttered just four words.
What do you think were the four words?
The husband just said "I Love You Darling"
The husband's totally unexpected reaction is proactive behavior. The child is
dead. He can never be brought back to life. There is no point in finding fault
with the mother. Besides, if only he have taken time to keep the bottle away,
this will not have happened. No
point in attaching blame. She had also lost her only child. What she needed at
that moment was consolation and sympathy from the husband. That is what he gave
her.
Sometimes we spend time asking who is responsible or who to blame, whether in a
relationship, in a job or with the people we know. We miss out some warmth in
human relationship in giving each other support. After all, shouldn't forgiving
someone we love be the easiest thing in the world to do? Treasure what you
have. Don't multiply pain, anguish and suffering by holding on to forgiveness.
If everyone can look at life with this kind of perspective, there would be much
fewer problems in the world.
Take off all your envies, jealousies, and unwillingness to forgive,
selfishness, and fears and you will find things are actually not as difficult
as you think...!!!
Collected By Amin Porobashi
Do Not Angry
A man was putting up family pictures on the newly painted walls of his house. He was using nails and a hammer in order to hang the picture frames. In the process, some nails got bent and fell down on the floor.
The man’s 4 yr old daughter was playing near by. She wanted to play with her dad and called out to him. However the man was busy with framing the pictures, and so ignored her calls and finally asked her to go outside and play with her brother. The girl saw the nails lying on the floor. So she picked up a few nails and went out to play along with her brother.
After a while the son came running in and told his dad ~ that the girl was scratching the newly purchased car with the nails.
The man ran outside and in a fit of rage, the furious Man took his child’s hand & hit it many times, not realizing he was using the hammer, which was in his hand. With blood all over her hands, the girl was rushed to a nearby hospital.
The girl underwent an emergency operation. After a while, When the child saw her father in the hospital, with painful eyes she said : “Dad, I am so sorry, that I damaged your car “. With tears in her eyes, She continued looking at her hand and asked~ ‘Dad – When will I get back my fingers? I promise that I will never ever damage your car again’.
At the hospital, The child had lost all her fingers due to multiple fractures.
The man was so hurt and speechless, that he couldn't stop sobbing and crying for hours. The girl had lost her fingers forever, because of his uncontrolled anger and stupid action.
He went back to the car and kicked it many times. Devastated by his own actions, sitting in front of the car he looked at the scratches, His daughter had written ‘LOVE YOU DAD’.
Moral: Don’t do something permanently stupid just because you are temporarily upset. If you are patient in one moment of anger you will escape a hundred days of sorrow… Remember, Anger is an acid that can do more harm to the vessel in which it is stored than to anything on which it is poured. Anger and Love have no limit.
Always remember that “Things are to be used and people are to be loved”. But the problem in today’s world is that “People are being used & Things are being loved”.
Collected By Amin porobashi
The man’s 4 yr old daughter was playing near by. She wanted to play with her dad and called out to him. However the man was busy with framing the pictures, and so ignored her calls and finally asked her to go outside and play with her brother. The girl saw the nails lying on the floor. So she picked up a few nails and went out to play along with her brother.
After a while the son came running in and told his dad ~ that the girl was scratching the newly purchased car with the nails.
The man ran outside and in a fit of rage, the furious Man took his child’s hand & hit it many times, not realizing he was using the hammer, which was in his hand. With blood all over her hands, the girl was rushed to a nearby hospital.
The girl underwent an emergency operation. After a while, When the child saw her father in the hospital, with painful eyes she said : “Dad, I am so sorry, that I damaged your car “. With tears in her eyes, She continued looking at her hand and asked~ ‘Dad – When will I get back my fingers? I promise that I will never ever damage your car again’.
At the hospital, The child had lost all her fingers due to multiple fractures.
The man was so hurt and speechless, that he couldn't stop sobbing and crying for hours. The girl had lost her fingers forever, because of his uncontrolled anger and stupid action.
He went back to the car and kicked it many times. Devastated by his own actions, sitting in front of the car he looked at the scratches, His daughter had written ‘LOVE YOU DAD’.
Moral: Don’t do something permanently stupid just because you are temporarily upset. If you are patient in one moment of anger you will escape a hundred days of sorrow… Remember, Anger is an acid that can do more harm to the vessel in which it is stored than to anything on which it is poured. Anger and Love have no limit.
Always remember that “Things are to be used and people are to be loved”. But the problem in today’s world is that “People are being used & Things are being loved”.
Collected By Amin porobashi
Why We Shout In Anger” ~ A short story on Relationships
A Hindu saint who was visiting river Ganges to take bath found a group of family members on the banks, shouting in anger at each other. He turned to his disciples smiled ‘n asked. ‘Why do people shout in anger shout at each other?’
Disciples thought for a while, one of them said, ‘Because we lose our calm, we shout.’ ‘But, why should you shout when the other person is just next to you? You can as well tell him what you have to say in a soft manner.’ asked the saint.
Disciples gave some other answers but none satisfied the other disciples.
Finally the saint explained, . ‘When two people are angry at each other, their hearts distance a lot. To cover that distance they must shout to be able to hear each other.
The angrier they are, the stronger they will have to shout to hear each other to cover that great distance.
What happens when two people fall in love? They don’t shout at each other but talk softly, Because their hearts are very close. The distance between them is either nonexistent or very small…’ The saint continued, ‘When they love each other even more, what happens? They do not speak, only whisper ‘n they get even closer to each other in their love.
Finally they even need not whisper, they only look at each other ‘n that’s all. That is how close two people are when they love each other.’
He looked at his disciples ‘n said. ‘So when you argue do not let your hearts get distant, Do not say words that distance each other more, Or else there will come a day when the distance is so great that you will not find the path to return.’
Collected By Amin Porobashi
Disciples thought for a while, one of them said, ‘Because we lose our calm, we shout.’ ‘But, why should you shout when the other person is just next to you? You can as well tell him what you have to say in a soft manner.’ asked the saint.
Disciples gave some other answers but none satisfied the other disciples.
Finally the saint explained, . ‘When two people are angry at each other, their hearts distance a lot. To cover that distance they must shout to be able to hear each other.
The angrier they are, the stronger they will have to shout to hear each other to cover that great distance.
What happens when two people fall in love? They don’t shout at each other but talk softly, Because their hearts are very close. The distance between them is either nonexistent or very small…’ The saint continued, ‘When they love each other even more, what happens? They do not speak, only whisper ‘n they get even closer to each other in their love.
Finally they even need not whisper, they only look at each other ‘n that’s all. That is how close two people are when they love each other.’
He looked at his disciples ‘n said. ‘So when you argue do not let your hearts get distant, Do not say words that distance each other more, Or else there will come a day when the distance is so great that you will not find the path to return.’
Collected By Amin Porobashi
A True Friend
In a battle, a soldier prepared 2 bring this wounded friend back from the field.
His captian said,
“Its of No use! ur friend must be dead”.
But soldier still goes & brings back his friend.
Seeing the dead body, Captain says
“I told u its of no worth. He’s dead”.
The soldier replies with moist eyes:
“No sir, it was really of worth…..
When i got to him, my friend saw me, smiled & said his last words:
“I KNEW YOU WOULD COME”……
Collected By Amin Porobashi
His captian said,
“Its of No use! ur friend must be dead”.
But soldier still goes & brings back his friend.
Seeing the dead body, Captain says
“I told u its of no worth. He’s dead”.
The soldier replies with moist eyes:
“No sir, it was really of worth…..
When i got to him, my friend saw me, smiled & said his last words:
“I KNEW YOU WOULD COME”……
Collected By Amin Porobashi
A Poor Boy
One day, a poor boy who was selling goods from door to door to pay his way through school, found he had only one thin dime left, and he was hungry.
He decided he would ask for a meal at the next house. However, he lost his nerve when a lovely young woman opened the door. Instead of a meal he asked for a drink of water.
She thought he looked hungry so brought him a large glass of milk He drank it slowly, and then asked, “How much do I owe you?” “You don’t owe me anything,” she replied “Mother has taught us never to accept payment for a kindness.”
He said… “Then I thank you from my heart.”
As Howard Kelly left that house, he not only felt; stronger physically, but his faith in God and man was strong also. He had been ready to give up and quit.
Years later that young woman became critically ill. The local doctors were baffled. They finally sent her to the big city, where they called in specialists to study her rare disease. Dr. Howard Kelly was called in for the consultation.
When he heard the name of the town she came from, a strange light filled his eyes. Immediately he rose and went down the hall of the hospital to her room. Dressed in his doctor’s gown he went in to see her.
He recognized her at once. He went back to the consultation room determined to do his best to save her life. From that day he gave special attention to the case.
After a long struggle, the battle was won. Dr. Kelly requested the business office to pass the final bill to him for approval.
He looked at it, and then wrote something on the edge and the bill was sent to her room. She feared to open it, for she was sure it would take the rest of her life to pay for
it all. Finally, she looked, and something caught her attention on the side as she read these words…… ” Paid in full with one glass of milk.” (Signed) Dr. Howard Kelly.
Tears of joy flooded her eyes as her happy heart prayed: “Thank You, GOD that your love has spread abroad through human hearts and hands.”
Collected By Amin porobashi
He decided he would ask for a meal at the next house. However, he lost his nerve when a lovely young woman opened the door. Instead of a meal he asked for a drink of water.
She thought he looked hungry so brought him a large glass of milk He drank it slowly, and then asked, “How much do I owe you?” “You don’t owe me anything,” she replied “Mother has taught us never to accept payment for a kindness.”
He said… “Then I thank you from my heart.”
As Howard Kelly left that house, he not only felt; stronger physically, but his faith in God and man was strong also. He had been ready to give up and quit.
Years later that young woman became critically ill. The local doctors were baffled. They finally sent her to the big city, where they called in specialists to study her rare disease. Dr. Howard Kelly was called in for the consultation.
When he heard the name of the town she came from, a strange light filled his eyes. Immediately he rose and went down the hall of the hospital to her room. Dressed in his doctor’s gown he went in to see her.
He recognized her at once. He went back to the consultation room determined to do his best to save her life. From that day he gave special attention to the case.
After a long struggle, the battle was won. Dr. Kelly requested the business office to pass the final bill to him for approval.
He looked at it, and then wrote something on the edge and the bill was sent to her room. She feared to open it, for she was sure it would take the rest of her life to pay for
it all. Finally, she looked, and something caught her attention on the side as she read these words…… ” Paid in full with one glass of milk.” (Signed) Dr. Howard Kelly.
Tears of joy flooded her eyes as her happy heart prayed: “Thank You, GOD that your love has spread abroad through human hearts and hands.”
Collected By Amin porobashi
True Love
One day, his wife, who had very long hair, asked him to buy her a comb for her hair to grow well and to be well-groomed.
The man felt very sorry and said no. He explained that he did not even have enough money to fix the strap of his watch he had just broken. She did not insist on her request.
The man went to work and passed by a watch shop, sold his damaged watch at a low price and went to buy a comb for his wife.
He came home in the evening with the comb in his hand ready to give to his wife.
He was surprised when he saw his wife with a very short hair cut.
She had sold her hair and was holding a new watch band.
Tears flowed simultaneously from their eyes, not for the futility of their actions, but for the reciprocity of their love.
MORAL: To love is nothing, to be loved is something but to love and to be loved by the one you love, that is EVERYTHING. Never take love for granted.
Collected By Amin Porobashi
The man felt very sorry and said no. He explained that he did not even have enough money to fix the strap of his watch he had just broken. She did not insist on her request.
The man went to work and passed by a watch shop, sold his damaged watch at a low price and went to buy a comb for his wife.
He came home in the evening with the comb in his hand ready to give to his wife.
He was surprised when he saw his wife with a very short hair cut.
She had sold her hair and was holding a new watch band.
Tears flowed simultaneously from their eyes, not for the futility of their actions, but for the reciprocity of their love.
MORAL: To love is nothing, to be loved is something but to love and to be loved by the one you love, that is EVERYTHING. Never take love for granted.
Collected By Amin Porobashi
বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
একুশে ফেব্রুয়ারী ভ্যালেন্টাইনস ডে না।
কথা বলছিলাম বন্ধুর সাথে এই দূর প্রবাস থেকে। হঠাৎ বন্ধু বলল আমাকে দোস্ত একটু পরে কথা বলছি। ৫ মিনিট পরে ফিরে আসলে তাকে জিজ্গেস করলাম কোথায় গেলি? সে বলল কোথাও না। বললাম তাহলে ফোন রেখে দিলি যে ? সে বলল আরে কালকে তো ২১শে ফেব্রুয়ারী তো আমার গার্ল ফ্রেন্ড শহীদ মিনারে যাওয়ার নাম করে ঘর থেকে বের হতে পারবে। তাই ও এখন ফোন দিয়ে বললো আমাকে কোথায় যেতে হবে। আমি বললাম ও আচ্ছা তার মানে গত ৭ দিন আগে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করেও কি তোমাদের ভালবাসার স্বাদ মিটল না ? যদিও জানি কথাটাকে সে খুব ভালোভাবে নিল না। যাই হোক ওর সাথে কথা বলা শেষ করেই লিখতে বসলাম।
ভালবাসা তুমি মানুষকে অন্ধ করে দাও আমি জানি। এই অন্ধ ভালবাসা কারণে দেখতে পাচ্ছি না আমাদের নৈতিক কি কি অবক্ষয় ঘটছে। আপনারা কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, যে এমন কোনো যুগল দেখেননি যারা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নাম করে এই দিবস তাকে তারা পালন করছে বেহায়া দিবস হিসাবে ? কেউ যদি না দেখে থাকেন আমাকে জানাবেন। ঠিকানা দিব গিয়ে দেখে আসবেন নিজের চোখে।
আমি লজ্জিত হে সালাম ,রফিক ,জব্বার, শফিউর ও আরো অনেকের কাছে যারা এই ভাষার জন্য তাদের প্রশস্ত বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন রাজপথে। আমি সত্যি খুব লজ্জিত আজ আমরা তোমাদের মত তরুণ হয়েও তোমাদের রক্ত বিসর্জন দিয়ে এনে দেওয়া দিবসকে পুজি করে তুলছি প্রেমিক প্রেমিকার সাথে দেখা করার সুযোগের স্বার্থ। শহীদ মিনারে অনেকেই আবার ফুল দিতে অস্বীকৃতি জানান, বলেন আমরা কি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে পূজা করব নাকি ? ফুল দিলে গুনাহ হয়। মেনে নিলাম তোমাদের কথা আমি। যারা বাংলাকে মাতৃভাষা করার দাবিতে তাদের তাজা রক্ত বিসর্জন দিয়ে গেল, যাদের রক্তের বিনিময়ে কথা বলতে পারছি আজ এই প্রিয় বাংলা ভাষায় তাদের জন্য কি তোমরা একটা ফাতিহারও আয়োজন করতে পার না ?ফুল দিলে পূজা হয় কিন্তু ফাতিহা দিলে তো আর পূজা হয় না। যাইহোক আমাদের ফুলের শ্রদ্ধা অথবা শহীদদের স্মরণে ফাতিহার আশায় সেদিন ওই দামাল ছেলেরা জীবন দিয়ে যায়নি। তারা যা অর্জন করে যাবার তারা তা অর্জন করেই গেছে। আর আমাদেরকে দিয়ে গেছে গার্ল / বয় ফ্রেন্ডের সাথে দেখার করার একটা সুবর্ণ সুযোগের দিন। একবার ধন্যবাদ তো দাও তাদের এই দিন দিয়ে যাবার জন্য।
এবার আমার কিছু ব্যাক্তিগত কোথায় আসি। আমার মোবাইলে গানের প্লে লিস্টে প্রায় ৪৭৮ টি গান আছে। রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, আধুনিক বাংলা সব গান মিলিয়ে বাংলা গানের সংখ্যা মাত্র ২২০টি। আর বাকি ২৫৮ গান ইংলিশ ও হিন্দী। একটু আগে ভাবলাম আর ভেবে লজ্জিত হলাম অনেক ,যে আজ কাল আমাদের মোবাইলে বাংলা গানের চেয়ে হিন্দী গানের সংখ্যাই বেশি থাকে। ভেবে আসলেই খুব লজ্জিত হলাম। এর একটু পরেই ভাবলাম আজ আমি এতসব কেন ভাবছি। জবাব পেলাম কাল ২১শে ফেব্রুয়ারী আর ১৯৫২ সালে এই দিনে শুধু বাংলাকে মাতৃভাষা করার জন্য জীবন দিয়ে গেল কিছু মা পাগল সন্তান। আমি তাদের মত হতে পারলাম না। কাল ২১শে ফেব্রুয়ারী বলে আজ অনেক কিছু ভেবে ফেললাম কিন্তু আমি কেন ভাবি না বছরের প্রতিটা দিন তাদের কথা যাদের বিনিময়ে আমি প্রতিটা মুহূর্ত নিজের মনের ভাব কে খুব সহজেই প্রকাশ করতে পারছি ? আমার কোনো জবাব নেই শুধু লজ্জায় মাথা নত করে চুপ করে থাকা ছাড়া।
তারা জীবন দিয়ে গেল শুধু ভাষার জন্যে আর আমরা ? আমরা আজ প্রেমিকাকে ''আমি তোমাকে ভালবাসি'' বলার চেয়ে সাচ্ছন্দ বোধ করি হিন্দিতে ''ম্যায় তুমসে পেয়ার করতি হু'' বলতে। বৃথাই কি ছিল তাদের দেওয়া জীবন ? না কোনো দিন না। আমরা আমাদের মা কে ভালবাসি না বলে সবাই যে বাসে না তা কিন্তু না। আজও শত দামাল ছেলেরা রয়েছে যারা তাদের অন্তরের ভিতর থেকেই মাকে ভালবাসে। যাদের অন্তরে মায়ের জন্য রয়েছে অকৃত্তিম ভালবাসা তাদের মনের ভিতরেই জ্বলে দাউ দাউ করে আগুন। সে আগুন শুধু তখনি প্রকাশ পায় যখন মায়ের কোনো অসন্মানি হয়। আজ আমরা যারা তরুণ তারা যেই উশৃঙ্খল জীবন যাপন করছি , আমরা যাদের মনে দেশ প্রেম অথবা দেশের প্রতি কোনো দায়িত্ব পালনে বিন্দু মাত্র গাত্রদাহ করছি না সেখানে আমাদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা কিভাবে ভালো হবে ?তারা যে আমাদের চেয়েও বেশি উশৃঙ্খল হবে না তার কি নিশ্চয়তা ?
আজ আমরাই আমাদের ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য রেখে যাচ্ছি এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়। তারা কোনোদিন জানবেনা কোনো ইতিহাস। সে জন্য দায়ী আমি। আমার সন্তানকে আমি কি শিখাবো যেখানে আমি নিজেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা করতে জানি না। দেখা যাবে আমার সন্তান হবে আমর চেয়েও বড় উশৃঙ্খল যে কিনা শহীদদের তো দূরের কথা তার জন্মদাতা বাবা মাকেই শ্রদ্ধা করবে না। কিন্তু তার জন্য আমি আমার সন্তানকে দায়ী করব না। তার জন্য দায়ী আমি নিজে।
তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালন করে গেছ আর আমাদের দিয়ে গেছ লজ্জায় নত শির।
রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
A DOCTOR
A doctor entered the hospital in hurry after being called in for an urgent surgery. He answered the call asap, changed his clothes & went directly to the surgery block.
He found the boy’s father pacing in the hall waiting for the doctor.
On seeing him, the dad yelled: “Why did you take all this time to come? Don’t you know that my son’s life is in danger? Don’t you have any sense of responsibility?”
The doctor smiled & said: “I am sorry, I wasn't in the hospital & I came as fast as I could after receiving the call…… And now, I wish you’d calm down so that I can do my work”
“Calm down?! What if your son was in this room right now, would you calm down? If your own son dies now what will you do??” said the father angrily
The doctor smiled again & replied: “I will say what Job said in the Holy Book “From dust we came & to dust we return, blessed be the name of God”. Doctors cannot prolong lives. Go & intercede for your son, we will do our best by God’s grace”
“Giving advises when we’re not concerned is so easy” Murmured the father.
The surgery took some hours after which the doctor went out happy, “Thank goodness!, your son is saved!” And without waiting for the father’s reply he carried on his way running. “If you have any questions, ask the nurse!!”
“Why is he so arrogant? He couldn't wait some minutes so that I ask about my son’s state” Commented the father when seeing the nurse minutes after the doctor left.
The nurse answered, tears coming down her face: “His son died yesterday in a road accident, he was at the burial when we called him for your son’s surgery. And now that he saved your son’s life, he left running to finish his son’s burial.”
MORAL: Never judge anyone….. Because you never know how their life is & what they’re going through”
He found the boy’s father pacing in the hall waiting for the doctor.
On seeing him, the dad yelled: “Why did you take all this time to come? Don’t you know that my son’s life is in danger? Don’t you have any sense of responsibility?”
The doctor smiled & said: “I am sorry, I wasn't in the hospital & I came as fast as I could after receiving the call…… And now, I wish you’d calm down so that I can do my work”
“Calm down?! What if your son was in this room right now, would you calm down? If your own son dies now what will you do??” said the father angrily
The doctor smiled again & replied: “I will say what Job said in the Holy Book “From dust we came & to dust we return, blessed be the name of God”. Doctors cannot prolong lives. Go & intercede for your son, we will do our best by God’s grace”
“Giving advises when we’re not concerned is so easy” Murmured the father.
The surgery took some hours after which the doctor went out happy, “Thank goodness!, your son is saved!” And without waiting for the father’s reply he carried on his way running. “If you have any questions, ask the nurse!!”
“Why is he so arrogant? He couldn't wait some minutes so that I ask about my son’s state” Commented the father when seeing the nurse minutes after the doctor left.
The nurse answered, tears coming down her face: “His son died yesterday in a road accident, he was at the burial when we called him for your son’s surgery. And now that he saved your son’s life, he left running to finish his son’s burial.”
MORAL: Never judge anyone….. Because you never know how their life is & what they’re going through”
মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
ভালবাসা দিবসের উপহার
১৪ই ফেব্রুয়ারী, বিশ্ব ভালবাসা দিবস। অনেকেই উদগ্রীব হয়ে আছেন এই দিনটিকে পালন করার জন্য। অনেকেই হয়ত ভালবাসার মানুষটিকে উপহার দেওয়া ভাবছেন। আসুন জেনে নেই কি হতে পারে ভালবাসার মানুষের জন্য এই দিনটির উপহার।
একগুচ্ছ ফুল:
ফুলকে ভালবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে এই পৃথিবীতে। সবাই কমবেশী ফুলকে ভালবাসে। আর এই ফুল দুজনের ভালবাসার মাঝে আরো সুগন্ধী আরও বাড়িয়ে দেয়। যাকে ভালবাসেন আপনি তাকে এই ফুলের মাঝেই বরণ করে নিন এই ভালবাসা দিবসে। ফুল যেন পবিত্র ভালোবাসাকে আরো পবিত্র করে তোলে। তাই এই ফুলই হোক আপনার জীবন সঙ্গিনীর জন্য প্রথম উপহার।
বই:
আপনি আপনার ভালবাসার মানুষটিকে দিতে পারেন তার পছন্দ অনুযায়ী কোনো বই। ভালবাসা দিবসের আগেই জেনে নিন কোন ধরনের বই তার পছন্দ এবং সেই দিন তাকে তার পছন্দের বইটি উপহার হিসেবে দিন। কখনো নিজের পছন্দের বই কিনে তাকে দিবেন না কারণ আপনি স্ট্রবেরী পছন্দ করলেও ওই স্ট্রবেরী দিয়ে কিন্তু মাছ ধরা যায় না। বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে তাকে তার পছন্দের খাবারটি দিতে হবে।
গহনা:
কম দামী হোক আর বেশি দামের হোক ওই দিন ভালবাসার মানুষকে গহনা জাতীয় কিছু উপহার দিতে পারেন। গলার অথবা কানের গহনা অথবা হাতের ব্রেসলেট দিতে পারেন। তবে কিনার সময় অবশ্যই আপনার ভালবাসার মানুষটির সাথে যাতে মানানসই হয় তা ভেবে কিনবেন আর এই ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার কল্পনা শক্তি ব্যাবহার করতে হবে। আপনিই পারবেন আপনার ভালবাসার মানুষটিকে কল্পনায় ফুটিয়ে তুলতে।
প্রতিজ্ঞা / শপথ:
শপথ ? হয়ত ভাবছেন এটা আবার কোন ধরনের উপহার ? বিশেষ করে উপরের উল্লেখিত উপহারগুলো হয়ে থাকে শুধু শুভেচ্ছা আদান প্রদানের জন্য। একজন ভালবাসার মানুষের জন্য শপথের চেয়ে আর কোনো বড় উপহার থাকতে পারে না। শপথ করার আগে ভেবে নিন আজ ভালবাসার মানুষ হিসেবে যে আপনার পাশে অবস্থান করেছে সে এই বিশেষ দিনে অন্যকারো সাথেও হয়ত থাকতে পারত। আপনাকে সে ভালবাসে বিধায় সে চায় আপনার সাথেই আজকেই এই দিনটাকে কাটানোর জন্য। সে যদি আপনাকে ভালোনাবাসতো তাহলে আজকে কোনভাবেই সে আপনার সাথে দেখা করতে আসত না। কোনো না কোনো বাহানায় থেকে যেত আপনার কাছ থেকে দূরে। সে আপনাকে সত্যি ভালবাসে বিধায় আজ আপানর পাশে সে দাড়িয়ে রয়েছে। তার চোখের চাহনিতে রয়েছে ভালবাসার বয়ে যাওয়া একটি নদী আর সেই নদীতে একসাথে সাতার কাটার স্বপ্নে আজ বিভোর সে। তাহলে কেন আপনি তার কাছে শপথ করতে পারবেন না ? যদি সত্যি তাকে ভালবেসে থাকেন তাহলে ভালবাসা দিবসের এই দিনে তার কোমল দুটি হাতের উপর হাত রেখে শপথ করুন তাকে কোনো দিন না ছেড়ে যাবার। শপথ করুন তাকে কোনো কষ্ট না দেবার। শপথ করুন তার সাথে কোনদিন বিশ্বাসঘাতকতা না করার। ভেবে দেখবেন একবার এই দিনে, সত্যি আপনি তাকে ভালবাসেন কিনা ?যদি ভালবাসেন তাকে উপহার দিন আপনার শপথ। আপনার ভালবাসার মানুষ যদি আপনাকে সত্যি ভালবাসে তাহেল আজকের দিনে আপনার এই শপথ আপনাদের ভালবাসায় নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে।
যদি আপনার ভালবাসার মানুষটার সাথে শপথ করতে আপনি দ্বিধাবোধ করেন তাহলে তার সাথে কোনো শপথ করার দরকার নেই। এবার আপনি শপথ করবেন আপনার নিজের সাথে যে ভালবাসার নামে কোনো খেলায় আপনি আর কোনদিন নিজেকে খেলোয়ার ভাববেন না। শুধু এটা ভাববেন যে আপনি ভালবাসার নামে যে খেলা খেলছেন অন্যজনের সাথে, অপরদিকে সে কিন্তু সাজিয়ে ফেলেছে আপনাকে নিয়ে তার পৃথিবী। তার সেই স্বপ্ন যখন আপনার খেলার কারণে ভেঙ্গে যাবে তখন তার পৃথিবীটা হয়ে পরবে শূন্য। একটি স্বপ্ন ভাঙ্গা মানুষের জীবনের যন্ত্রণা মৃত্যুর যন্ত্রণার চেয়েও ভয়ংকর। তার জীবনের তখন আর কিছুই বাকি থাকে না।
তাই ভালবাসার মানুষকে যদি কেউ কোনো উপহার দিতে চান এই দিনে তাহলে এই শপথের চেয়ে মূল্যবান কিছু হয়ত আর নেই। সবার ভালবাসা সুন্দর এবং সার্থক হোক। এই কামনা রইল।
বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
জরুরিভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

আমি খুব ভালো করেই জানি আমার এই লেখাটা প্রধানমন্ত্রী অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নজরে আসবে না। ভুলেও যদি কখনো চলে আসে তাহলে দয়া করে এড়িয়ে যাবেন না। গতকালের প্রায় প্রত্যেকটা সংবাদপত্রে ইউএই এর ভিসা বন্ধের সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। তারই কিছু কথা নিয়ে আমার এই লিখা।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউএই বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করে। সেই রক্ষনশীলতার নীতি গ্রহণ করার পর গত সপ্তাহে ইউএই বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয়। কর্মসংস্থান বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা, ট্যুরিস্ট বা ভ্রমণ ভিসা এবং সব ধরনের বাণিজ্যিক ভিসা প্রদান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০১২ থেকে আজ পর্যন্ত দেড় বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও ইউএই সাথে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু কেন?
মাফ করবেন আমাকে, আমি আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর চাই না। জাহাজের খবর আপনারাই ভালো জানেন আমাদের চেয়ে। আমি না হয় আদার ব্যাপারী এতকিছু জানি না কিন্তু আপনারা যখন দেশ চালান তখন আপনাদেরতো আর মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না যে রেমিট্যান্স আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস এই ইউএই। নিজে বাঁচিনা আবার বাপের নাম। রেমিটেন্সের আয় কমে যাবে সেটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নাই কারণ আগে নিজের পেটে ও নিজের ফ্যামিলির পেটে আহার দিয়ে তারপর
আসবে রেমিটেন্স নিয়ে চিন্তা ভাবনা। সৌদিআরবের পর এই দেশটি হচ্ছে রেমিটেন্স আয়ের দ্বিতীয় উত্স। কিন্তু গত দেড় বছর হয়েগেল আমাদের বাংলাদেশীদের জন্য কোনো নুতুন ভিসা প্রদান করা হচ্ছে না। আপনাদের কি এটা দায়িত্বের মাঝে পরে না একটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসা? কেন শুধু একটু আলোচনার অভাবে আজ বিপন্ন বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ্য মানুষ ? আপনাদের একটু আলোচনার মাঝেই সম্ভব হত এর একটি সুষ্ঠ সমাধান। কিন্তু আজ আমাদের ভাগ্যকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে আল্লাহর উপর।
বর্তমানে এই দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মোট ২৩ লক্ষ্য বাঙালির বসবাস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কেই বলছি যে আপনারা জানেন কিনা জানিনা তবে যারা এই প্রবাসে আছি তাদের একেক জনের মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাদের পরিবারটি। আমরা যারা প্রবাসে আছি, কারো যদি তাদের পরিবারে দুরাবস্থা না থাকত তাহলে আমরা কেউ দেশ ছেড়ে এই প্রবাসে পরে থাকতাম না। রোদ ,বৃষ্টি ,তুফান সব মাথায় নিয়েই কাজ করে যাই শুধু নিজের পরিবারের মুখে ফোটানোর জন্য। বিশ্বাস করুন কারো যদি পিছুটান না থাকত তাহলে আমাদের কে কেউ এখানে আটকে পারত না। সকল নির্যাতন আমরা মুখবুঝে সহ্য করে যাই। আমাদের এখানে দিন রাতের কোনো ব্যাবধান নেই সবই সমান। আপনারা কি একবারও ভেবেছিলেন যে এই ২৩ লক্ষ্য প্রবাসী শ্রমিকের মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাদের ৪ থেকে ৫ জন সদস্য দ্বারা গঠিত প্রতেকটি পরিবার? হিসাব করে দেখুন দয়া করে এই ২৩ লক্ষ প্রবাসীর জন্য ক্ষতির মুখে পরেছে তাদের সব পরিবার। সবাইকে মিলিয়ে যার মোট সংখ্যা হবে প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ্য মানুষ। আমরা শুধু শ্রমিকরাই এখানে থাকি না এখানে অনেকে প্রতিষ্টিত করেছেন অনেক ব্যাবসা বাণিজ্য। এখনো সময় আছে চোখ খোলে তাকান আমাদের দিকে।
কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ থাকা এ দেশের দরজা এখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য একেবারেই বন্ধ। এখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের ভবিষ্যত কি হবে কেউই তা বলতে পারে না। ভিসা নবায়ন ও আনুষঙ্গিক কাজে সৃষ্টি হয়েছে এই বৈরী আবহওয়া। ধরপাকড় চলছে সবখানে। এসব সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে হা সমাধানের কোনো পদক্ষেপ না নিলেও নিয়েছেন আমাদেরকে আরো নির্যাতিত করে রাখার পদক্ষেপ। তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আজকে আমাদের এই এক কোটি মানুষের জীবন নিয়ে খেলছেন আপনারা। আপনাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ আমাদের প্রবাসীদের এই অবস্থা।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে ভিসা প্রদানে রক্ষনশীল নীতি গ্রহণ করলেও আমাদের প্রবাসীদের আশা ছিল সরকার একটি আলোচনার মাধ্যমে তার একটা সমাধান করবে কিন্তু আমাদের সরকার তা না করে সমস্যাটা আরও জটিল করে তুলল। সঙ্কটের শুরু মূলত ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০-এর ভেন্যু নির্বাচনের ভোট দেয়াকে ঘিরে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজক হওয়ার প্রতিযোগিতায় ছিল বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, তুরস্কের ইজমির, ব্রাজিলের সাও পাওলো, রাশিয়ার একাতেরিনবার্গ ও থাইল্যান্ডের একটি শহর। এর মধ্যে প্রার্থিতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় থাইল্যান্ড প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়ে। প্রতিযোগিতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের ভোটের ব্যাপারে সবচেয়ে আশাবাদী ছিল দুবাই। কিন্তু গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ভোট পাবে রাশিয়ার একাতেরিনবার্গ । ২৬শে নভেম্বর ২০১৩, প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ব্যুরোর ১৫৪তম সাধারণ অধিবেশন। সেখানেই ভোটাভুটির মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০-এর স্বাগতিক দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ ভোট দেয় রাশিয়ার একাতেরিনবার্গের পক্ষে। তবে শেষ পর্যন্ত গোপন ভোটাভুটিতে জিতে ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০-এর স্বাগতিক শহর নির্বাচিত হয় দুবাই। যার নুন খেতে হয় তার গুন গাইতে হয়। বাংলাদেশ সরকার যখন দুবাইকে এড়িয়ে রাশিয়াকে ভোট দিবে আর শেষ পর্যন্ত ফলাফল যখন দুবাইয়ের পক্ষে হয় তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার পিছনে যথাযুক্ত কারণ থাকবেই। সরকারের হঠকারিতার কারণে ইউএইতে থাকা লাখ লাখ বাংলাদেশী এখন ভাগ্য বিপর্যয়ের মুখে। অথচ ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০-এর স্বাগতিক দেশ হিসেবে দুবাইকে সমর্থন দেয়ায় নেপাল ৩ লাখ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে। দুবাইকে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশও এর চেয়ে বেশি সুযোগ নিতে পারতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের সরকার সে পথে অগ্রসর হয়নি। সমাধানতো করলেন না বরং ঠেলে দিলেন ২৩ লক্ষ পরিবারকে অনিশ্চয়তার দিকে। আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে আর পারলাম না।

তবে একটা কথা খেয়াল রাখবেন আপনাদের আলোচনাই পারত একটি সমাধানের পথ বের করতে। আপনার আলোচনার অভাবে যখন এতগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন হতে যাচ্ছে ভাববেন না এর দায় আপনাকেই নিতে হবে। তাই এখনো আপনার কাছে সবিনয় নিবেদন জানাচ্ছি যে চেয়ারে যখন বসছেন দয়া করে সেই চেয়ারটি ছেড়ে একবার এখানে এসে দেখুন আমরা কত কষ্ট করে বেছে আছি এই প্রবাসে। একবার আসুন আপনারা। আপনাদেরকে তো প্রতিদিনই টেলিভিসনে দেখি কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, একদিন না হয় একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না তারপরও আমাদের মনে একটা আশারবাণী ফোটে উঠবে। পদক্ষেপ নিন এটাই আমি সহ ২৩ লক্ষ নাগরিকের আকুল আবেদন।
রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
ভালবাসা এবং টিপস
সবার ভালবাসার প্রতি রইল আমার হাজার সালাম। কারো ভালোবাসাকে ইঙ্গিত করে আমার এই লেখা না এটা শুধু মাত্রই আমার ব্যাক্তিগত চিন্তাধারা। ।
এখন ইন্টারনেট খুললেই অনেকের অনেক লিখনী আমাদের নজরে আসে। অনেকেই ভালবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য, ভালবাসার মানুষটিকে কাছে পাবার জন্য ,নারীর মন কিভাবে জয় করতে হবে ,অথবা একটা নারীর কাছে কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে এসব নিয়ে অনেক হাজার টিপস দিয়ে থাকেন। এই পর্যন্ত কত জন বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন যে এসব টিপস পরে তাদের ভালবাসার সম্পর্কটি হয়েছে ? জগতের প্রযুক্তি দিয়ে আজ অনেক কিছুই সম্ভব যেমন গর্ভবতী নারীর পেটের সন্তানটি ছেলে না মেয়ে , শরীরের কোথায় পাথর হয়েছে সবই সম্ভব কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউকি মনের ভিতর কি আছে সেটা দেখতে পেরেছে কখনো ? কার মনে কি খেলা করছে অথবা কারো মনের কষ্ট কি কোনদিন ঔষধ দিয়ে সরানো গেছে ? আমার জানা মতে হয়ত মনের কষ্ট দেখানোর মত অথবা সেই কষ্ট দূর করার মত সাধ্য আজ প্রযুক্তি অর্জন করতে পারেনি।
আমি কয়েকজন পুরুষ মানুষের লিখা পরেছি যে কিভাবে আপনি আপনার ভালবাসার মানুষটির মন জয় করতে পারবেন। পড়ে অবাক হলাম সে কিভাবে এই টিপসগুলো লিখল ? ভাবছিলাম কোনো নারী কি তাকে বলেছিল তোমরা এই সেই করলে আমার মন জয় করা যায় ? যদিও সে কোনো নারী থেকে এই পরামর্শ নিয়ে লিখে থাকে তাহলে আমার কথা হলো সে ওই টিপসগুলো লেখার আগে তাকে বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি নারী থেকে পরামর্শ নিয়ে লিখতে হবে। তারপর আমি আশা করি কারো সাথে কারো চাহিদা মিলবে না। কিভাবে আমরা ৭টি অথবা ১০টি টিপস দিয়ে তাদের মন জয় করতে পারি যেখানে ৭ কোটি নারীর ৭ কোটি ধরনের চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে ? আর যদি সে লিখার আগে কোনো নারীর পরামর্শ ছাড়াই তাদের মন চাওয়া কি হতে পারে সেটা বোঝতে পারে তাহেল আমি বলব নিতান্তই ব্যার্থ হয়েছে তার লিখা কারণ যেখানে কথায় বলে সয়ং বিধাতাও নারীর মন বোঝতে পারে না। তো টিপস পরে কারো মন জয় করতে যাবেন না। যদি টিপস পরে কাকতালীয় ভাবে দুই একটা সম্পর্ক হয়েও যায় তখন ভালবাসার খুটিটি স্থাপিত হয় সেই টিপস দিয়েই। যখন আপনার ভালবাসার মানুষ আপনাকে বলবে যে ""জানিনা কিভাবে তোমাকে মনের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছি, বুঝতে পারিনি কখন তুমি তোমার ভালবাসা দিয়ে আমার মন জয় করে নিয়েছ"" তখন আপনি কি জবাব দিবেন তাকে? এটাই কি জবাব যে আরে আমিতো ভালবাসা দিয়ে না টিপস পরে তোমার মন জয় করেছিলাম? যদি আপনি সেটা না বলেন তখন আপনাকে নিতে হবে মিথ্যার আশ্রয়। তো জানি না টিপস পরে কতদিন ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখা যায়।
ছেলে অথবা মেয়ে সবার মন ভিন্ন ভিন্ন আর ভালবাসা দুটি ভিন্ন হৃদয়ের মাঝেই সৃষ্টি হয়। চোখের দেখায় একটা ভালোলাগা শুরু হলে আস্তে আস্তে বিধাতার মহিমার মাঝেই দুটি হৃদয়ে জন্ম হয় ভালবাসার। আমার কাছে ভালবাসা মানে দুটি শরীর তবে হৃদয় হয় একটি। ভালবাসার সৃষ্টি হওয়ার পর একজন তার ভালবাসার মানুষটিকে ঠিক সেই রূপে দেখতে চায় যেই রূপে তাকে সম্পর্ক হওয়ার আগে থেকেই কল্পনা করে আসতেছে। কারো জীবনে ভালবাসার মানুষ না থাকলেও সে যে স্বপ্ন দেখে না সেটা ভুল। সবাই সপ্ন দেখে। যখন কেউ তার ভালবাসার মানুষ পায় তখন সে চায় এতদিন ধরে সপ্ন দেখে আসা মানুষটির মতই যেন সে হয়। যদিও পুরোপুরি হয় না তবে একজন আরেকজনকে তার মনের মত করে গড়ে তুলতে চায়। ঠিক তখন যদি আপনি আপনার ভালবাসার মানুষটির দিকে নজর না দিয়ে আমি শুধু বইয়ের ভিতর টিপস খোজতে থাকেন তাহলে আপনি টিপস পাবেন ঠিকই কিন্তু সেই টিপসগুলো ব্যাবহার করার মানুষ পাবেন না। আপনি টিপস খুজতে খুজতে হয়ত তার মনের আসল চাহিদা তা বুঝার ক্ষমতা আপনি হারিয়ে ফেলবেন।
এইত গেল ভালবাসা পাওয়ার বেপারে টিপসের ভুমিকা। এখন কিন্তু অনেক হাজার টিপস পাওয়া যায় যে ভালবাসার সম্পর্কটি নষ্ট হয়ে গেলে কি করবেন অথবা ব্রেক আপ হওয়ার পরে কিভাবে নিজেকে গুছিয়ে আনবেন তারও হাজার টিপসের ছড়াছড়ী এখন। কিন্তু আমি বোঝতে পারি না যেসব ছেলে মেয়েরা ভালবাসায় ব্যার্থ হয়ে আত্মহত্যা করছে তাদের চোখে কি সেই টিপসগুলো পরেনি ? হয়ত সেদিনের সেই টিপসগুলো পড়লে ওদের আবেগকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত এবং নুতুন করে ভালবাসার মানুষ খুঁজে নিতে পারতো। সেদিন তাদের হাতে এই টিপস পৌছালে হয়ত তাদের জীবনটা আর যেত না। হায়রে টিপস!!!!
একটি লোক গেল ডাক্তারে কাছে গিয়ে বলল ডাক্তার সাহেব আমার প্রেমিকা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে কিন্ত আমি তাকে কোনভাবেই ভুলতে পারছি না। তো ডাক্তার তাকে বলল এটা কোনো ঔষধে যাবে না। চেষ্টা কর ভুলতে দেখবা আস্তে আস্তে সব ভুলে যাবেমনকে শক্ত কর। তখন সে বলল, ডাক্তার সাহেব আমি অসুস্থ বলেই আপনার কাছে এসেছি আর আপনি বলছেন চেষ্টা করার জন্য? একজন মানুষ অসুস্থ হলে কি আর সারাজীবন সেই অসুখ থাকে নাকি? সাময়িক ভাবে যে কষ্ট সেটা দূর করার জন্য এবং এই অসুখটা যাতে চিরস্থায়ী রূপ নিতে না পারে সেজন্যই আপনার কাছে আসা। তখন রোগীর অনেক পীড়াপিড়িতে ডাক্তার তাকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে বিদায় করে দিল। সেই মানুষটি তো মহা সুখী সে তার ভালবাসার মানুষটিকে ভুলার ঔষধ পেয়েছে তাই আর দেরী না করে সে ঔষধ খাওয়ার পর যখন দেখল ঘুম আসতেছে তখন সে ঘুমিয়ে পরল। কিন্তু সেই ঔষধে কি কোনো কাজ হয়েছিল ? না হয়নি বরং সেই ঘুমের মাঝে তার স্বপ্নে এসেছিল সে যাকে ভুলার জন্যই সে ঘুমিয়ে ছিল।
কোনো টিপসই কারো ভালবাসার মানুষটিকে ভলিয়ে দিতে পারে না কোনদিন না। ভালবাসা পাবার জন্য অথবা ভালবাসা হারিয়ে টিপস এর সহায়তা না নিয়ে নিজের প্রতি নির্ভরশীল হোন। সেই হতে পারে আপনার জীবন সঙ্গিনী যার স্বপ্ন দেখে আসছেন আপনি এতগুলো দিন ধরে। নিজেকে স্মার্ট করার টিপস আপনি নিতে পারলেও ভুলেও ভালবাসার মানুষটিকে জয় করার টিপস নিতে যাবেন না। টিপস নেওয়ার বদলে আপনার ভালবাসার মানুষটির দিকে আপনার নজরটি রাখুন। সত্যি যদি ভালোবেসে থাকেন তাহলে তার চোখের দিকে তাকালেই আপনি বোঝতে পারবেন তার চোখের ভাষা। তার চোখের দিকে তাকিয়েই পেয়ে যাবেন তাকে জয় করার সর্বশ্রেষ্ঠ টিপস। তার চোখের দিকে তাকিয়ে যখন আপনি তার মনের ভাষা বুঝতে পারবেন তখন আমার মনে হয় না আপনাকে আর কোনদিন ব্রেক আপ এর পরের টিপস খুজতে হবে কারণ আপনার চেয়ে তার জীবনে পরম আত্মীয় খুব কমই সে পাবে।
আমরা যারা টিপস ভালবাসার জন্য আমার মনে হয় টিপস লিখে আমরা যেই সময়টা নষ্ট করি সেই সময়টা যদি ভালবাসার পজিটিভ দিক গুলো তুলে ধরি তাহলে সবাই ভালবাসার সবার ভালবাসার মানুষটির দিকে নজর দিবে এবং সেই সাথে দেখা যাবে ব্রেক আপ এর ঘটনাও কমে আসছে। নিজের কাহিনী সবাইকে বুলন সেটা হোক সুখের অথবা দুঃখের। যদি সুখের হয় তাহলে সবাই আরো উত্সাহ পাবে আর যদি দুখের হয় তখন আপনার দুঃখ দেখে অন্যজন কেউ শিখবে যে কারো মনে দুঃখ দেওয়া ঠিক না।






